কমিটির সরাসরি অভিযোগ, অমানবিক কাজের চাপের বিষয়ে বহুবার জানালেও নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে বিপুল কাজ সামলাতে গিয়ে ভুলভ্রান্তি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এদিকে ভুলের জন্য শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে চাপ যেন দ্বিগুণ।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 24 November 2025 13:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) পর্ব চলছে। আর সেই চাপেই যেন কার্যত জেরবার বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO)। একের পর এক অসুস্থতা, আত্মহত্যা—শাসক থেকে প্রশাসন, কোথাও যেন থামছে না বিতর্ক। এই অবস্থাতেই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার পথে নামল BLO অধিকার রক্ষা কমিটি (BLO Rights Protection Committee )। কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হওয়া মিছিল যাবে রাজ্য নির্বাচন দফতরে (Election Commission, West Bengal)। সেখানে দিনভর অবস্থান বিক্ষোভ করবেন তাঁরা।
কমিটির সরাসরি অভিযোগ, অমানবিক কাজের চাপের বিষয়ে বহুবার জানালেও নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে বিপুল কাজ সামলাতে গিয়ে ভুলভ্রান্তি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এদিকে ভুলের জন্য শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে চাপ যেন দ্বিগুণ। মানসিক আতঙ্ক, শারীরিক ক্লান্তি—এসব মিলে বহু অফিসার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কয়েকজনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এরই প্রতিবাদে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এদিনের কর্মসূচি বলে জানিয়েছেন বিএলও-রা।
গত দু’দিনে রাজ্যের নানা জেলায় অন্তত ছ’জন বিএলও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্য নদিয়ার চাপড়ায়। ৫৩ বছর বয়সি এক বিএলও-র মৃত্যু রাজনৈতিক উত্তাপে ঘি ঢেলেছে। পরিবারের দাবি, সুইসাইড নোটে তিনি স্পষ্টভাবে নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন।
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার ১৪৭ নম্বর বুথের বিএলও শুকদেব দাসের কথায়, “১৮ ঘণ্টা কাজ করা যায় না। দিনভর ঘুরে ফর্ম সংগ্রহ, তার পর রাত জেগে ডেটা আপলোড—শরীর তো আর যন্ত্র নয়!” তবে কাটোয়া এসডিও অনির্বাণ বসু অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, তাঁরা কেবল কমিশনের নির্দেশ মেনে কাজ করছেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে জঙ্গিপুর, ইসলামপুর—সব জায়গা থেকেই একই ছবি। একাধিক অফিসারই জানিয়েছেন, অসহনীয় কাজের চাপে শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ছেন তাঁরা। ইসলামপুর হাসপাতালে শুয়ে মোস্তাফা কামালের অকপট স্বীকারোক্তি, “সময়সীমা মানতে গিয়ে শরীর আর মানছে না।”
এমন পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল নীরবতা বজায় রাখলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে SIR প্রক্রিয়া স্থগিত করার আবেদন করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি ক্ষোভ উজাড় করে লিখেছেন—আর কত মৃত্যু হলে এই প্রক্রিয়া থামবে?
বিতর্কের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কমিশন ও বিজেপির চাপে বিএলওদের “অমানবিক কাজের বোঝা” চাপানো হচ্ছে। বিজেপির পাল্টা দাবি, তৃণমূল রাজনৈতিক মুনাফার জন্য মিথ্যে অভিযোগ ছড়াচ্ছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই আজ পথে নামলেন বিএলওরা। তাঁদের দাবি—অমানবিক চাপের অবসান এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ। এখন দেখার বিএলও-দের এই কর্মসূচির প্রেক্ষিতে কমিশন কী পদক্ষেপ করে।