মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে যে পুরোপুরি ব্রাত্য করে রেখেছিলেন তা পুরোপুরি বলা যাবে না। আবার তৃণমূলের তৃতীয় মেয়াদে যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন তাও নয়। সেই তিনি, উনিশের লোকসভা ভোটের সময়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে থাকা আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার (Rajesh Kumar IPS) এবার বিজেপি-র প্রার্থী (BJP Candidate list 2026 West Bengal) হতে পারেন। রাজনীতিতে শেষ মুহূর্তেও অনেক সিদ্ধান্ত বদলে যায়। তেমন কোনও অঘটন না ঘটলে দক্ষিণবঙ্গের কোনও শিল্পাঞ্চল থেকে পদ্মফুল প্রতীকে বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assemble Election 2026) লড়তে পারেন রাজেশ।

শেষ আপডেট: 19 March 2026 15:04
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে যে পুরোপুরি ব্রাত্য করে রেখেছিলেন তা পুরোপুরি বলা যাবে না। আবার তৃণমূলের তৃতীয় মেয়াদে যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন তাও নয়। সেই তিনি, উনিশের লোকসভা ভোটের সময়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে থাকা আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার (Rajesh Kumar IPS) এবার বিজেপি-র প্রার্থী (BJP Candidate list 2026 West Bengal) হতে পারেন। রাজনীতিতে শেষ মুহূর্তেও অনেক সিদ্ধান্ত বদলে যায়। তেমন কোনও অঘটন না ঘটলে দক্ষিণবঙ্গের কোনও শিল্পাঞ্চল থেকে পদ্মফুল প্রতীকে বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assemble Election 2026) লড়তে পারেন রাজেশ।
রাজেশ কুমার ১৯৯০ ব্যাচের আইপিএস অফিসার। পুলিশ মহলেই কথিত রয়েছে, রাজেশের অতিশয় ঘনিষ্ঠ বন্ধু যদি কেউ থেকে, তিনি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার। রাজীবকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভায় মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি এখন তৃণমূল সাংসদ। আর রাজেশ চললেন বিজেপিতে। রাজেশের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সুসম্পর্কেরও একটি অধ্যায় রয়েছে।
রাজেশের সঙ্গে দিল্লির বিজেপি নেতাদের অনেকেরই দীর্ঘদিনের পরিচয়। কেন্দ্রে ইউপিএ সরকার গঠনের পর রাজেশ একদা তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রাইভেট সেক্রেটারি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শেষমেশ সেই ইচ্ছাপূরণ হয়নি। সেই সময়ে তৃণমূল ইউপিএ-র শরিক দল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া মন্ত্রিসভায় ৬ জন প্রতি মন্ত্রী ছিল তৃণমূলের। তৎকালীন প্রতি মন্ত্রী সৌগত রায়ের প্রাইভেট সেক্রেটারি হয়েছিলেন রাজেশ। পরে মুকুল রায় মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন তিনি। কেন্দ্রে পালা বদলের পর তৎকালীন বিজেপির মন্ত্রী চন্দ্রেশ কুমার কাটৌচের ওএসডিও ছিলেন রাজেশ কুমার।
২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের পর মুকুল রায়ের সুপারিশেই রাজেশ কুমারকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ তথা সিআইডি-র এডিজি করা হয়েছিল। কিন্তু মুকুল রায় পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যেতেই নবান্নের সন্দেহের চোখে পড়েন। তাঁকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে পাঠিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এহেন রাজেশের ভূমিকা ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটেও খুব তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। লোকসভা ভোটের সময়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে তাঁকে বসিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। অনেকে মনে করেন, মুকুল রায়ের সুপারিশেই তা হয়েছিল।
উনিশের লোকসভা ভোটের পর রাজেশ কুমারকে ফের পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের মেম্বার সেক্রেটারি করা হয়। সেই সময়ে পরিবেশ মন্ত্রী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সুবাদেই শুভেন্দুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় রাজেশের।
রাজনৈতিক সূত্রের মতে, বিজেপি ও শুভেন্দুর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সু-সম্পর্কই রাজেশের প্রার্থীব হওয়ার জন্য ইতিবাচক হয়ে উঠছে। বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার তাতে রাজেশ কুমারের নাম থাকে কিনা এবং তাঁকে কোন আসন থেকে প্রার্থী করা হয়।