মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপারদেরও ব্যাপক হারে বদলি করা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 19 March 2026 14:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে প্রশাসনিক রদবদল ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (ECI Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে ফের একবার তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, নজিরবিহীনভাবে বাংলাকে নিশানা করছে নির্বাচন কমিশন, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর পক্ষে বিপজ্জনক ইঙ্গিত।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপারদেরও ব্যাপক হারে বদলি করা হয়েছে। তাঁর কথায়, এটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।
গত রবিবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা (West Bengal Election 2026 Dates) করেছে নির্বাচন কমিশন। সেদিন থেকে এখনও পর্যন্ত মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, সিপি থেকে শুরু করে একাধিক জেলাশাসক, ডিআইজি-কেও বদলে দিয়েছে কমিশন। এই সিদ্ধান্তেই বিরোধিতা করে আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া চিঠি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাতে কোনও লাভই হয়নি। তাই এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের কড়া বার্তা দিলেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী।
মমতার অভিযোগ, যে সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ থাকার কথা, সেগুলিকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক রঙে রাঙানো হচ্ছে। এতে সংবিধানের মূল চেতনার উপর আঘাত লাগছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। তাঁর দাবি, অতিরিক্ত ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিরোধী। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আইবি, এসটিএফ, সিআইডি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার আধিকারিকদের বেছে বেছে সরানো হচ্ছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক কার্যকারিতাকে দুর্বল করে দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
The manner in which the Election Commission has singled out and targeted Bengal is not just unprecedented- It is deeply alarming. Even before the formal notification of elections, more than 50 senior officials including the Chief Secretary, Home Secretary, DGP, ADGs, IGs, DIGs,… pic.twitter.com/ITipND3qYr
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 19, 2026
বিজেপির ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন মমতা। তাঁর প্রশ্ন, কেন বাংলাকে এভাবে নিশানা করা হচ্ছে? কেন স্বাধীনতার এত বছর পরও নাগরিকদের নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার মধ্যে দ্বিচারিতার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। একদিকে যাঁদের সরানো হচ্ছে, অন্যদিকে তাঁদেরই আবার নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে - এই ঘটনাকে তিনি প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মমতার অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে বাংলার ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েমের চেষ্টা। তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’-র সঙ্গেও তুলনা করেছেন। তবে রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মমতা আশ্বাস দেন - ভয় দেখিয়ে বাংলাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। মানুষই শেষ পর্যন্ত এর জবাব দেবে।