নির্বাচনের আগে অবসরপ্রাপ্ত অথচ এক্সটেনশনে থাকা আধিকারিকদের বিস্তারিত তথ্য চাইল নির্বাচন কমিশন।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 17 March 2026 21:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবসরের পর ফের নিয়োগ পাওয়া (এক্সটেনশন) রাজ্য সরকারের যে কোনও ক্যাডারের আধিকারিকদের বিস্তারিত তালিকা চেয়ে পাঠানো হল রাজ্যের কাছে। কমিশনের তরফে এই তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে যেসব প্রাক্তন আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকেরা কাজ করছেন, এমনকি অবসর নেওয়ার পরেও যেসব WBCS অফিসারদের বিভিন্ন দফতরে নিয়োগ দিয়েছে সরকার, চাওয়া হয়েছে সেই তথ্যও। আধিকারিকদের একাংশের মতে, ভোটের আগে এ ধরনের তথ্য তলব কার্যত নজিরবিহীন।
এই বিষয়ে নিয়েই কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরকে (Home PAR) চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, কমিশনের এই নির্দেশের পরই নবান্ন থেকে রাজ্যের সমস্ত দফতরের বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন দফতরের নিজেদের অধীনে থাকা দফতর ও ডাইরেক্টরেটগুলিতে ‘এক্সটেনশন’-এ কর্মরত অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে।
তবে কমিশনের পক্ষ থেকে অবসরপ্রাপ্ত অথচ এক্সটেনশনে থাকা কর্মী / আধিকারিকদের এই তথ্য তলবে জল্পনা ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই এই তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সেই সূত্রেই পশ্চিমবঙ্গের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের দফতর নবান্নকে অবসরপ্রাপ্ত অথচ বর্তমানে কর্মরত আধিকারিকদের তথ্য পাঠাতে বলেছে। কোন দফতরে কতজন অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক পুনরায় নিযুক্ত রয়েছেন, তাঁরা বর্তমানে কী দায়িত্ব পালন করছেন, অবসরের পর কত দিন ধরে কাজ করছেন— এই সব তথ্য বিস্তারিতভাবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ করতে পারে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। যদিও কমিশন সূত্রে খবর, এইসব অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকরা সরাসরি নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে যুক্ত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই তথ্য চাওয়া হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের প্রায় প্রতিটি দফতরেই অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার চল রয়েছে। এক তো আইএএস / আইপিএস স্তরে রাজ্যের কোটা অনুযায়ী কম আধিকারিক থাকা এবং অবসর নেওয়া আধিকারিকদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যেই তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞ প্রাক্তন আমলাদের উপদেষ্টা হিসেবেও নিয়োগ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরেই এমন নিয়োগ হয়েছে। যদিও তাঁদের সরাসরি নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকার সম্ভাবনা প্রায় নেই। তবে অন্যান্য দফতর বা স্তরে যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বা আমলাকে পুনঃর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ এমন কোনও দফতরে আছেন কিনা যা সরাসরি নির্বাচন সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত, মূলত সেই নামের তালিকা পাওয়াই কমিশনের মুখ্য উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, এই তালিকা হাতে পেলে কমিশন হয়তো নতুন কোনও নির্দেশ জারি করতে পারে যাতে 'এক্সটেনশনে' থাকা এইসব কর্মীদের নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে ব্যবহার না করা হয়।