তল্লাশি চালিয়ে তার ঘর থেকে উদ্ধার হয় ১৫টি পাহাড়ি চন্দনা টিয়া, যা অ্যালেক্সান্দ্রিন প্যারাকিট নামেও পরিচিত। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাখিগুলি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং অনুপ গায়েনকে গ্রেফতার করে।

শেষ আপডেট: 19 February 2026 19:33
দেবাশিস গুছাইত, হাওড়া: পাখি পাচারের খবর পেয়ে হানা দিয়েছিল পুলিশ। সঙ্গে ছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। ১৫টি দেশীয় প্রজাতির টিয়া পাখি-সহ গ্রেফতার করা হয়েছে অনুপ গায়েন নামে এক আন্তঃরাজ্য পাখি পাচারকারীকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, খোলাবাজারে দীর্ঘদিন ধরে টিয়া, ময়না, শালিক-সহ বিভিন্ন দেশীয় পাখি অবাধে বিক্রির অভিযোগ আসছিল। সেই সূত্র ধরেই বুধবার সন্ধ্যায় উলুবেড়িয়া থানার একটি বিশেষ দল ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াইল্ডলাইফ এনভায়রনমেন্ট সেভিয়ার ট্রাস্ট-এর সদস্যরা উলুবেড়িয়া বাজারপাড়ায় অনুপ গায়েনের বাড়িতে ক্রেতা সেজে যান।
পাখি দেখাতে অভিযুক্ত তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যায়। তারপরেই তল্লাশি চালিয়ে তার ঘর থেকে উদ্ধার হয় ১৫টি পাহাড়ি চন্দনা টিয়া, যা অ্যালেক্সান্দ্রিন প্যারাকিট নামেও পরিচিত। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাখিগুলি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং অনুপ গায়েনকে গ্রেফতার করে। খবর দেওয়া হয় বন দফতরে। রাতেই বন বিভাগের আধিকারিকরা থানায় পৌঁছে পাখিগুলিকে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং ধৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
ধৃতকে বৃহস্পতিবার উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বন দফতরের দাবি, জেরায় অনুপ স্বীকার করেছে, পাঞ্জাব ও ঝাড়খণ্ড-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে দেশীয় টিয়া ও ময়না পাখি পাচার করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করা হত। এই চক্রে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য অর্ঘ্য মল্লিক জানান, ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী টিয়া, ময়না, শালিক-সহ সমস্ত দেশীয় পাখি ধরা, পোষা বা বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাঁর দাবি, এই বেআইনি ব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশ ও বন দফতর যেন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পুলিশ ও বন দফতর যৌথভাবে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।