নিউটাউনের একটি হোটেলে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠকের পর থেকেই দলের অন্দরে বিতর্কের ঝড় ওঠে। সমর্থকদের মধ্যেও চাপানউতোর শুরু হয়। এই নিয়ে প্রতীক সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বাম রাজনীতির নীতি-নৈতিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন।

কলার খোসা দেখাচ্ছেন সেলিম
শেষ আপডেট: 19 February 2026 19:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) ঠিক আগে সিপিএম-এ চরম বিতর্ক। 'বিক্ষুব্ধ' প্রতীক উর রহমানকে (Pratik Ur Rahman) নিয়ে প্রশ্ন করতেই সাংবাদিককে কলা দেখালেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম (Mohammad Salim)! দল ছাড়ার পর কি তৃণমূলে যোগ দেবেন প্রতীক উর রহমান? রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। তার মধ্যেই সেলিমের এহেন কাণ্ড আরও বিতর্ক বাড়িয়েছে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রতীক উর (Pratik Ur Rahman)। বিশেষ করে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Mohammad Salim)-কে নিশানা করেছেন তিনি। প্রতীকের অভিযোগ, দলে এখন কথা বলার বা কথা শোনার কোনও পরিবেশ নেই। তাঁর কথায়, রাজ্য সম্পাদক যদি হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন, তা হলে তাঁর সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় সমস্যা কোথায়?
ক্ষোভের সুর চড়িয়ে বলেন, “হয় স্বীকার করুন, নয় স্পষ্ট জানিয়ে দিন বিচ্ছেদ।” কিন্তু সেই প্রশ্নের জবাব মেলেনি। এই আবহেই আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে সেলিম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দেবেন না।
নিউটাউনের একটি হোটেলে হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) সঙ্গে বৈঠকের পর থেকেই দলের অন্দরে বিতর্কের ঝড় ওঠে। সমর্থকদের মধ্যেও চাপানউতোর শুরু হয়। এই নিয়ে প্রতীক সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বাম রাজনীতির নীতি-নৈতিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। বিতর্ক থামার আগেই তিনি দল থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দেন সেলিমকে। সেখানে স্পষ্ট জানান, দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেন না।
এদিকে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাও নতুন করে আলোচনায়। একদিন আগে সেখানে ছিল ছাত্র সম্মেলন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি, হুমায়ুন কবীর ও সামিরুল ইসলাম। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে সেলিম পৌঁছন। তাঁকে দেখেই হল ছেড়ে বেরিয়ে যান একাংশ পড়ুয়া। বয়কট করা হয় তাঁর বক্তব্য।
মঞ্চে উঠে খানিক খোঁচা দিয়ে সেলিম বলেন, তিনি শিক্ষা জগত থেকে দূরে থাকেন, নিজেকে অশিক্ষিতদের দলে রাখেন। বক্তব্য শেষ করলেও প্রশ্নোত্তর পর্ব এড়িয়ে দ্রুত বেরিয়ে যান। বাইরে সাংবাদিকরা রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলতেই সাফ জানিয়ে দেন, কোনও উত্তর দেবেন না। এরপর গাড়িতে ওঠার সময় হাতে থাকা কলার খোসা দেখানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে তাঁর ব্যাখ্যা, সময়ের অভাবে মধ্যাহ্নভোজ করতে পারেননি, তাই কলা খেয়েছিলেন - সেই খোসাই দেখিয়েছেন, অন্য কিছু নয়।
সব মিলিয়ে আলিমুদ্দিনের অন্দরে অস্বস্তি স্পষ্ট। প্রতীকের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা যেমন চলছে, তেমনই নেতৃত্বের নীরবতা ঘিরেও প্রশ্ন উঠছে।