রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু থেকেই ছিল। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেছিল। তবে বৃহস্পতিবার জানা গেল, আরও ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৭০ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে অযোগ্য হিসেবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 February 2026 19:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে শেষ হতে আর বেশিদিন বাকি নেই। তবে এরই মধ্যে যে তথ্য সামনে এসেছে তা চমকে দেওয়ার মতো। তাই মনে করা হচ্ছে, প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়াতে পারে নির্বাচন কমিশন (ECI)।
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) আগে এই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু থেকেই ছিল। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেছিল। তবে বৃহস্পতিবার জানা গেল, আরও ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৭০ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে অযোগ্য হিসেবে। কারণ তাঁরা পর্যাপ্ত নথিই দেখাতে পারেননি। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেল।
অন্যদিকে, এসআইআর (SIR in West Bengal) শুনানি পর্বে ৫ লক্ষ ভোটার আসেইনি বলে জানা গেছে। পাশাপাশি জেলাশাসকদের তরফে ভেরিফিকেশন বাকি ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩২৩ জন ভোটারের। এছাড়া 'ফাউন্ড ওকে' করা সত্ত্বেও যে ভোটারদের ক্ষেত্রে 'টু বি রিভিউড' করা হয়েছে সেই সংখ্যাটা প্রায় ৩০ লক্ষ। ইআরও-এইআরও-দের পক্ষ থেকে ডিসপোসল বাকি অন্তত ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্য। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য এখনও ঝুলে রয়েছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা আর বাড়বে কিনা। সূত্রের খবর, সময়ের মধ্যে যদি সব ডিসপোসল সম্পন্ন না হয়, তাহলে সময় বাড়তে পারে। তবে তা ঠিক করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনই। এমনটাই স্পষ্ট করেছে সিইও দফতর।
বুধবারই জানা গেছিল, পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ভোটারের নথি রাজ্যের বাইরে পাঠানো হয়েছিল ভেরিফিকেশনের জন্য। কিন্তু শুনানি শেষ হওয়ার পরও সেই নথিগুলির ভেরিফাইড হয়ে এখনও ফেরত আসেনি। নির্বাচনী সময়সূচি অনুযায়ী, ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পূর্ণ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা। তাই বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, বাইরে পাঠানো এই নথি ইতিমধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়ার ডিজিটাল সিস্টেমে আপলোড করা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত যাচাই না হওয়ায় সেগুলিকে ‘ফাউন্ড ওকে’ হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। এর ফলে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (ডিইও) মধ্যে ধন্দ তৈরি হয়েছে। কবে এই নথি ফেরত আসবে, কবে তা অনুমোদিত হবে - তা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ এখনও মেলেনি।
যদিও রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal) স্পষ্ট জানান, যে নথিগুলির ভেরিফিকেশন রাজ্যের মধ্যেই হওয়ার কথা ছিল তা সম্পূর্ণ হয়েছে। বাইরে পাঠানো কিছু সংখ্যক নথি ভেরিফাইড হয়ে আসা বাকি, তবে সময়ের মধ্যেই তা চলে আসবে। এ নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই।