পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানিকে রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় কমিশনের তরফে। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে জেলা ভিত্তিক আদিম জনজাতি, তফসিলি জাতির নথির ইস্যুর তুলেছিলেন তিনি। এবার দেখা গেল, তখন বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিলেও এখন সেই তথ্যই ডিইও-দের থেকে চেয়ে পাঠাল কমিশন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 February 2026 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের এসআইআর (West Bengal SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ECI) সঙ্গে বৈঠকে যে প্রসঙ্গ তুলে ভর্ৎসিত হয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের ডিইও (Purba Bardhaman DEO) - সেই ইস্যুতেই এবার নজর দিল কমিশন।
সিইও দফতরের তরফে রাজ্যে ডিইও-দের বলা হয়েছে, জেলা ভিত্তিক আদিম জনজাতি, তফসিলি জাতি (SC), জনজাতি, বনবাসী, আশ্রমের আবাসিক প্রভৃতি শ্রেণির রিপোর্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে জমা দিতে হবে।
সিইও দফতরের তরফে এও জানানো হয়েছে, এই তথ্য একত্রিত করে বৃহস্পতিবারই দুপুর ২টোর মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ECI)-এর কাছে পাঠানো হবে এবং বিশেষ উইন্ডো (Special Window SIR) খোলার প্রস্তাব দেওয়া হবে।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এসআইআর সংক্রান্ত বৈঠকে একাধিক জেলাশাসকের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদার জেলাশাসকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে।
অন্যদিকে, পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানিকে রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় কমিশনের তরফে। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে জেলা ভিত্তিক আদিম জনজাতি, তফসিলি জাতির নথির ইস্যুর তুলেছিলেন তিনি। এবার দেখা গেল, তখন বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিলেও এখন সেই তথ্যই ডিইও-দের থেকে চেয়ে পাঠাল কমিশন।
বিষয়টি নিয়ে সিইও দফতরের এক আধিকারিককে প্রশ্ন করা হলে তিনি এই মুহূর্তে এর কোনও উত্তর দিতে চাননি।
প্রসঙ্গত, কমিশনের ওই বৈঠকে সব পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয় - ইআরও, এইআরও ও ডিইওদের কোনও গাফিলতি চোখে পড়লে তা সরাসরি কমিশনের নজরে আনতে হবে। পাশাপাশি সিইও-কে বলা হয়েছিল, অগ্রহণযোগ্য বা অপাঠ্য নথি যাচাইয়ের ঘটনা সামনে এলে তা অবিলম্বে কমিশনে পাঠাতে, যাতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
কমিশন জানিয়ে রেখেছে, প্রতিটি নথি ও সিদ্ধান্ত বহু বছর সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকবে। এক, দুই বা পাঁচ বছর পরও যদি কোনও ‘বিদেশি’ নাগরিকের নাম তালিকায় থাকার ঘটনা ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনের কথা মাথায় রেখে বিষয়টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয় বৈঠকে।