Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

মাটির তলায় হাজার বছরের বিস্ময়! বীরভূমে খননে মিলল পাল–সেন যুগের পাঁচ স্তরের প্রাচীন মন্দির

এএসআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাদীশ্বর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই একটি উঁচু ঢিবি নজরে ছিল। স্থানীয়দের ধারণা ছিল, ঢিবির নীচে লুকিয়ে থাকতে পারে কোনও প্রাচীন স্থাপত্য।

মাটির তলায় হাজার বছরের বিস্ময়! বীরভূমে খননে মিলল পাল–সেন যুগের পাঁচ স্তরের প্রাচীন মন্দির

ফাইল ছবি।

সুমন বটব্যাল

শেষ আপডেট: 26 December 2025 14:38

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বীরভূমের মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায় (Five-tiered ancient temple from Pala-Sena era found during excavations in Birbhum)। পরপর পাঁচটি স্তর—প্রতিটি স্তরের কাঠামো ভিন্ন, কখনও গোলাকৃতি, কখনও ত্রিকোণ। স্তর যত উপরের দিকে উঠেছে, ততই আকারে ছোট হয়েছে নির্মাণ। আর সেই স্তরের পাশেই মিলেছে নানা আকৃতির পোড়ামাটির ধুনুচি। 

বীরভূমের মুরারই ব্লকের ভাদীশ্বর গ্রামে খনন করে প্রায় এক হাজার বছরের প্রাচীন একটি মন্দিরের কাঠামোর সন্ধান পেল 
ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বা কেন্দ্রীয় আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (এএসআই) কলকাতা সার্কেল। বাংলার প্রাচীন ইতিহাসে যা নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

এএসআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাদীশ্বর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই একটি উঁচু ঢিবি নজরে ছিল। স্থানীয়দের ধারণা ছিল, ঢিবির নীচে লুকিয়ে থাকতে পারে কোনও প্রাচীন স্থাপত্য। সেই অনুমানের ভিত্তিতেই প্রায় এক বছর আগে সেখানে খননকার্য শুরু করে এএসআই। 

উদ্দেশ্য ছিল, মাটির তলায় থাকা অতীতের চিহ্ন উদ্ধার করে তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব নির্ধারণ করা। সম্প্রতি খনন শেষ হতেই সামনে আসে এই ব্যতিক্রমী মন্দির কাঠামো, যা দেখে চমকে উঠেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরাও।

খননে দেখা গিয়েছে, মন্দিরটির সবচেয়ে নীচের স্তরটি ছিল সম্পূর্ণ গোলাকৃতি। তার উপর দ্বিতীয় স্তরে তৈরি হয়েছিল ত্রিকোণাকৃতি কাঠামো। তৃতীয় স্তরে সেই ত্রিকোণ কাঠামোকে কেন্দ্র করে আবার একটি গোলাকৃতি নির্মাণ করা হয়। চতুর্থ স্তর ফের ত্রিকোণ এবং সবশেষে উপরের স্তরটি তুলনামূলক ছোট আকারের গোলাকৃতি রূপে গড়ে তোলা হয়েছিল। এই ধরনের স্তরবিন্যাস ও জ্যামিতিক বৈচিত্র্য বাংলার মন্দির স্থাপত্যে অত্যন্ত বিরল বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

মন্দিরের আশপাশ থেকে বিপুল পরিমাণ পোড়ামাটির নিদর্শন উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য পোড়ামাটির ধুনুচি। উপরের অংশ কিছুটা ভাঙা হলেও নকশা ও গঠনে তা সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমানে প্রচলিত ধুনুচির সঙ্গে এর মিল নেই। ধুনুচিগুলির ধরার হ্যান্ডেল সোজা এবং নীচের দিকে গোলাকৃতি রিং যুক্ত, যাতে স্থির ভাবে বসানো যায়। একই ধরনের নয়—বিভিন্ন আকার ও নকশার একাধিক ধুনুচি মিলেছে। পাশাপাশি পোড়ামাটির বাটি, গামলা, পুঁথি-সহ নানা ব্যবহার্য সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে।

এই খনন প্রসঙ্গে এএসআই কলকাতা সার্কেলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডঃ রাজেন্দ্র যাদব সংবাদমাধ্যমকে জানান, খননকার্য সম্পূর্ণ হয়েছে এবং প্রাথমিক বিশ্লেষণে জানা যাচ্ছে, মন্দিরটি পাল যুগের শেষ পর্ব ও সেন যুগের শুরুর সময়কালে নির্মিত। অর্থাৎ, এর বয়স প্রায় এক হাজার বছর। খনন সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট ইতিমধ্যেই দিল্লিতে এএসআই-এর ডিরেক্টরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে বাংলার প্রাচীন ইতিহাসের এই নতুন অধ্যায় আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।


```