কেবল লোকাল নয়, দুরপাল্লার এক্সপ্রেসেও একই চিত্র। যাত্রীদের প্রশ্ন, কবে ফিরবে সময়নিষ্ঠ সেই পুরনো রেল?
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 25 December 2025 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়দিনের (Christmas) আনন্দে ডুবেছে শহর। উৎসব মুখর পার্ক স্ট্রিট, রাস্তায় ছুটির আমেজ (Holiday Mood)। কিন্তু সেই ‘ছুটির মেজাজ’ যেন ঢুকে পড়েছে শিয়ালদহ মেন ও নর্থ শাখার লোকাল ট্রেনেও (Local trains), এমনই অভিযোগ নিত্যযাত্রীদের। বড়দিনের দিনে বহু ট্রেন গড়ে আধঘণ্টার বেশি লেট, কোথাও কোথাও এক ঘণ্টা ছুঁয়েছে দেরি।
সকালের অফিস টাইম থেকে দুপুর প্রায় সারাদিন জুড়েই একই ছবি। মাঝপথে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেন, তাও কখনও সিগন্যাল সমস্যার কথা বলে, কখনও আবার কোনও ঘোষণা ছাড়াই। ফলে কামরার ভিতরে বাড়ছে বিরক্তি, ক্ষোভ, উৎকণ্ঠা। এক যাত্রী ক্ষোভের সুরে বললেন, “আমাদের তো ছুটি নেই। কিন্তু ট্রেনটা দেখছি আজ নিজের মতো ছুটি নিয়ে নিয়েছে!”
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিত্যযাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি সমস্যায়। দেরির জেরে অফিস, ব্যবসা, সবটাই ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত। তাঁদের আক্ষেপ, “ভাড়া বাড়াতে হলে বাড়ান, কিন্তু অন্তত সময়টা ঠিক রাখুন। লোকাল ট্রেন মানেই কি আর দেরি?”
প্রবীণ যাত্রীদের স্মৃতিতে এখনও জ্বলজ্বল করে পুরনো দিনের ভারতীয় রেল। তাঁদের কথায়, “একসময় ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম (Indian Standard Time)’ মানেই ছিল রেলওয়ের সময়নিষ্ঠা। এখন মনে হয়, সব ক্ষেত্রেই ‘ভেরি লেট’।”
কেবল লোকাল নয়, দুরপাল্লার এক্সপ্রেসেও একই চিত্র। ২৩ ডিসেম্বর হরিদ্বার থেকে উপাসনা এক্সপ্রেসে ফিরেছিলেন দিব্যেন্দু দাস। তাঁর বক্তব্য, “রাত তিনটেয় হাওড়ায় পৌঁছোনোর কথা ছিল, পৌঁছল সকাল ১০টায়। প্রায় সাত ঘণ্টা লেট!”
গত জুনে মুম্বই-হাওড়া জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে যাত্রা করেছিলেন গার্গী দাস। নির্ধারিত সময় ভোর ৪.৩৫, শালিমারে পৌঁছল প্রায় দুপুর একটা। সাড়ে আট ঘণ্টা দেরি! তাঁর ক্ষোভ, “এত টাকা খরচ করেও যদি সময়মতো পরিষেবা না পাই, তাহলে বলতে ইচ্ছে করে, এই পরিষেবার দামই বা কী?”
রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, যাত্রী চাপ বাড়ছে, ট্রেনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই কোথাও কোথাও সময়সূচিতে সমস্যা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
কিন্তু সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন যাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, “এটা একদিনের সমস্যা নয়, বহুদিনের ধারাবাহিক অভ্যাস। ভারতীয় রেল কি আর সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না? নাকি সরকারি ব্যবস্থার সেই পুরনো উদাসীনতা (আসি যায়, মাইনে পাই) ভর করেছে পরিষেবায়?”
বড়দিনের দিনে শহর যেমন উৎসবে মেতেছে, তেমনই লোকাল ট্রেনের কামরায় জমেছে দেরির ক্ষোভ, দীর্ঘশ্বাস… আর একটাই প্রশ্ন, কবে ফিরবে সময়নিষ্ঠ সেই পুরনো রেল?