বিদায়ের প্রথাগত জাঁকজমক নয়—নিঃশব্দ, গম্ভীর এক প্রস্থানই বেছে নিচ্ছেন তিনি।

বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।
শেষ আপডেট: 24 December 2025 20:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবসরের আগে বিদায় সংবর্ধনা নেবেন না, নিজের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু (Calcutta High Court, Justice Biswajit Basu)।
আগামী ৩ জানুয়ারি তাঁর অবসর। তবু প্রথা ভেঙে ‘ফুল কোর্ট’ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না তিনি (avoid farewell reception)। আদালত সূত্রের খবর, হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে লেখা চিঠিতে বিচারপতি বসু জানিয়েছেন, অভিমান এবং গভীর খারাপ লাগা থেকেই এই সিদ্ধান্ত।
প্রথা অনুযায়ী অবসরের আগে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে সংবর্ধনা জানায় বার অ্যাসোসিয়েশন, বার লাইব্রেরি এবং ইনকর্পোরেটেড ল’ সোসাইটি। প্রধান বিচারপতি-সহ উপস্থিত থাকেন হাইকোর্টের সকল বিচারপতি। কিন্তু বিচারপতি বসুর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এ বছর জুলাই মাসের এক ঘটনার পর থেকেই তিনি আহত ও বিমর্ষ।
উচ্চ প্রাথমিকের এক মামলার প্রসঙ্গে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে কয়েক জন চাকরিপ্রার্থী তাঁর ছবির উপর পা তুলে মাড়ান, চলে কটূক্তি। সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সংবাদমাধ্যমে। অথচ সে সময়ে আইনজীবী সংগঠনগুলির তরফে প্রকাশ্যে কোনও নিন্দা বা প্রতিবাদ শোনা যায়নি, ঘনিষ্ঠ মহলে এমনই ক্ষোভ বিচারপতির।
দুই দশকেরও বেশি সময় বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য থাকার পর সেখান থেকেই বিচারপতি পদে আসীন হয়েছিলেন তিনি। অথচ অপমানের সেই মুহূর্তে পাশে দাঁড়ায়নি কেউ! ঘনিষ্ঠদের কথায়, তাঁর আক্ষেপ, “তখন কেউ কথা বলেনি, কেউ বিবৃতি দেয়নি। এখন বিদায়ের দিনে মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনতে চাই না।” সেই কারণেই সংবর্ধনা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত।
উল্লেখযোগ্য, ওই ঘটনার পর আদালত নিজেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ তীব্র ভাষায় প্রশ্ন তোলে—একজন বিচারপতির ছবি পদদলিত করার মানে কী? হতাশা, না ইচ্ছাকৃত অসম্মান? আদালত অবমাননার মামলায় চাকরিপ্রার্থীদের ভর্ৎসনা করা হয়, তাঁদের পক্ষের আইনজীবী নিঃশর্ত ক্ষমাও চান।
তবু সেই দিনের তিক্ততা পেরোতে পারেননি বিচারপতি বসু। বিদায়ের প্রথাগত জাঁকজমক নয়—নিঃশব্দ, গম্ভীর এক প্রস্থানই বেছে নিচ্ছেন তিনি।