বুধবার দুপুরে ব্যস্ত সময় মধ্যমগ্রাম স্টেশনের বাইরে ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের কয়েকটি ইঞ্জিন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি আগুন। দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর নেই।

মধ্যমগ্রামে আগুন
শেষ আপডেট: 4 March 2026 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের শহরে অগ্নিকান্ড! বুধবার দুপুরে ব্যস্ত সময় মধ্যমগ্রাম স্টেশনের (Madhyamgram Station) বাইরে ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের কয়েকটি ইঞ্জিন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি আগুন। দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর নেই।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন দুপুরে স্টেশনের পাশে একটি রেস্তরাঁতে সিলিন্ডার ফেটে আগুন লাগে (Cylinder Blast Madhyamgram)। মুহূর্তে তা ছড়িয়ে যায় আশেপাশের দোকানগুলিতেই। দমকলে খবর দেওয়া হয়। তবে ইঞ্জিন আসার আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় পরপর কয়েকটি দোকান।
কয়েকঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় দমকল কর্মীদেরও যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছেন অনেকেই।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের জেরে ট্রেন পরিষেবা ব্যহত হয়েছে। যাত্রীদের নিয়ে দাঁড়িয়ে কয়েকটি ট্রেন। মধ্যমগ্রাম থেকে বনগাঁ, শিয়ালদহ, হাসনাবাদ শাখার ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
ক'দিন আগেই দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত আবাসন ‘আরবানা কমপ্লেক্স’-এর এক টাওয়ারে আচমকা আগুন লাগে। এই বহুতলেই থাকেন টলিউডের একাধিক সেলিব্রিটি, পায়েল সরকার, লহমা ভট্টাচার্য-সহ আরও কয়েক জন তারকা। একই কমপ্লেক্সে থাকেন দেব (Dev), রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty), শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় (Subhashree Ganguly) এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachna Banerjee)-র মতো প্রথম সারির শিল্পীরাও। ফলে ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
গত ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে নাজিরাবাদের একটি গোডাউনে আগুন লাগে। মুহূর্তে তা ছড়িয়ে যায় পাশের ওয়াও মোমোর গোডাউনেও (WOW Momo godown)। তেল, গ্যাস এবং বিপুল পরিমাণে দাহ্য সামগ্রী থাকায় আগুন ভয়ংকর রূপ নিয়েছিল। পুরোপুরি ভাবে আগুন নেভাতে দমকল কর্মীদের কমপক্ষে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লেগেছিল।
দমকলের অভিযোগ ছিল, গোডাউনে কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ঘটনাস্থলে গিয়ে সেই কথাই কার্যত স্বীকার করেছিলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose)।
ঘটনার দু'দিনের মাথায় গুদাম মালিককে গ্রেফতার করা হয়। তবে তিনি এর সম্পূর্ণ দায় ওয়াও মোমোর কর্তৃপক্ষের উপরেই চাপান।
টাকা রোজগারের জন্য ঘর-পরিবার ছেড়ে কলকাতায় (Kolkata) এসেছিলেন। নাজিরাবাদের গোডাউনে কাজ করতেন। ঘটনার রাতেও সেখানে ছিলেন, কিন্তু গেট ভিতর ও বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল। অগ্নিকাণ্ডের পর চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছিলেন, কেউ কেউ মৃত্যু নিশ্চিত জেনে পরিবারকে শেষ ফোনে আশঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন। এক রাতেই সব শেষ। সেই ভয়াবহ আগুনে বন্ধ গোডাউনে ঝলসে মৃত্যু হয় অন্তত ২৭ জনের।