এসএসসি-র 'দাগি' তালিকায় (SSC Tainted List) নাম রয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর (Ankita Adhikari)। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের গোঁড়ার দিকে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছিল এই নামটিকে কেন্দ্র করে।

'দাগি' তালিকায় প্রাক্তন মন্ত্রীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী
শেষ আপডেট: 31 August 2025 01:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি-র 'দাগি' তালিকায় (SSC Tainted List) নাম রয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর (Ankita Adhikari)। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের গোড়ার দিকে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছিল এই নামটিকে কেন্দ্র করে। প্রভাব খাটিয়ে 'অযোগ্য' মেয়েকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধেই। জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। অবশেষে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর চাকরি বাতিল করে বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছিলেন অঙ্কিতা অধিকারী। তৎকালীন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ের বিরুদ্ধে 'বেআইনি' ভাবে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ এনে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন ববিতা সরকার। সেই মামলায় ২০২২ সালে পরেশ-কন্যার চাকরি বাতিল করেন তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Ganguly)।
আদালতের নির্দেশে অঙ্কিতার খোয়ানো চাকরি ও বেতনের ১৫ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন ববিতা। পরে যদিও তাঁর মার্কশিটকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনামিকা রায়। শেষে তিনি ববিতার চাকরি পান। শেষ পর্যন্ত অনামিকাকেও চাকরি হারাতে হয়।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের তিন বছর আগের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান অঙ্কিতা অধিকারী। তবে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। তাদের পর্যবেক্ষণে অঙ্কিতার নিয়োগ 'সন্দেহজনক' বলা হয়।
এদিন স্কুল সার্ভিস কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে তৃণমূলের বহু প্রভাবশালী নেতা ও বিধায়ক ঘনিষ্ঠদের নাম রয়েছে। তৃণমূল কাউন্সিলর (TMC Councilor) কুহেলি ঘোষ, প্রিয়াঙ্কা মণ্ডলের নাম উঠে এসেছে। মোট কথা তাঁরা 'দাগি অযোগ্য' চাকরিপ্রাপক বলে চিহ্নিত। তাছাড়া পিংলার জলচক পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি অজয় মাঝির নামও রয়েছে এই তালিকায়। নাম রয়েছে বিধায়কের আত্মীয়েরও।
বস্তুত, প্রথমে ‘দাগি অযোগ্য’ প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যেই সেই তালিকা হঠাৎ প্রত্যাহার করা হয়। এনিয়েই বিস্তর আলোচনা হয়েছে রাজনীতির অন্দরেই।