“আজ এই ব়্যাম্পে তিন জন ‘ভূত’ হাঁটবেন। কমিশন যাঁদের মৃত বলেছে, তাঁরা আজ এখানে জীবন্ত প্রমাণ।”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 2 January 2026 19:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার বারুইপুরের সভা থেকে নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) নজিরবিহীনভাবে আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। অভিষেকের অভিযোগের ধরনে সভাস্থলে হাজির মানুষজন হেসে লুটোপুটি খান। যার জেরে সভার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নড়েচড়ে বসল কমিশন।
কমিশন সূত্রে খবর, বারুইপুরে অভিষেকের বক্তব্যের পরেই জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ভুল ভ্রান্তি হতে পারে। তবে সেই সংখ্যাটা অনেক কম। এ ব্যাপারে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সভায় অভিষেক যাঁদের সামনে এনে ‘মৃত’ বলে কমিশনের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নের মুখে তুলেছেন, সেই দুই পুরুষ ও এক মহিলার ঘটনা ঠিক কী—ডিইও-কে তা স্পষ্ট করে জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, জেলায় এভাবে কত জন জীবিত ভোটারকে মৃত দেখানো হয়েছে বা খসড়া ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে, তারও পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়েছে কমিশন।
এসআইআর আবহে শুক্রবার থেকে রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক প্রচারে নামেন অভিষেক। ব্রিগেডের ধাঁচে বারুইপুরের সভায় তৈরি হয় বিশেষ ব়্যাম্প। সেই র্যাম্পের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “আজ এই ব়্যাম্পে তিন জন ‘ভূত’ হাঁটবেন। কমিশন যাঁদের মৃত বলেছে, তাঁরা আজ এখানে জীবন্ত প্রমাণ।”
এর পরই মঞ্চে উঠে আসেন মনিরুল ইসলাম মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি ও মায়া দাস। তাঁদের দিকে ইঙ্গিত করে অভিষেকের কটাক্ষ—
“দেখে কি মৃত মনে হচ্ছে? এঁরা বেঁচে আছেন—আপনারা দেখছেন। কিন্তু কমিশন নাকি দেখতে পাচ্ছে না!”
অভিষেকের দাবি, দুই জনের বাড়ি মেটিয়াবুরুজ, এক জনের কাকদ্বীপ। এভাবে জ্যান্ত মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে ভোটার তালিকা থেকে—সেই কারণেই র্যাম্পের আয়োজন, ‘মৃতদের’ হাঁটিয়ে দেখাতেই এই প্রতীকী প্রতিবাদ।
সেখানেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও কমিশনকে এক বন্ধনীতে রেখে তাঁর বার্তা, “একজনের নামও কাটতে দেব না। তৃণমূল দিল্লিতে যাবে, নেতৃত্ব দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভ্যানিশ কুমাররা তৈরি থাকুন—সবাই ভোটের জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাবেন।”
অভিষেকের এই মন্তব্যের পরেই কমিশনের অন্দরে চাপানউতোর শুরু হয়। কমিশন সূত্রে পাওয়া খবর, পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে তড়িঘড়ি রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।