জ্যান্ত মানুষকে ‘মৃত’ দেখিয়ে ভোটের খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ! অভিযোগের জবাবেই বারুইপুরে প্রচারসভার মঞ্চে বিশেষ ব়্যাম্প তৈরি

শেষ আপডেট: 2 January 2026 19:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জ্যান্ত মানুষকে ‘মৃত’ দেখিয়ে ভোটের খসড়া তালিকা (Sir Voter List) থেকে নাম বাদ! অভিযোগের জবাবেই বারুইপুরে প্রচারসভার মঞ্চে বিশেষ ব়্যাম্প তৈরি—সভামঞ্চ থেকেই সেই অভিযোগের বিরুদ্ধে তীব্র সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)।
ভাষণের মাঝপথেই ব়্যাম্পের দিকে ইঙ্গিত করে অভিষেকের বক্তব্য, “অনেকে ভাবছেন, এই ব়্যাম্পটা কেন করা হয়েছে। আজ এই ব়্যাম্পে আমি তিন জন ‘ভূত’কে হাঁটাব। কমিশন যাঁদের মৃত বলেছে, তাঁরা আজ এখানে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ।
তার পরই মঞ্চে উঠে আসেন মনিরুল ইসলাম মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি ও মায়া দাস। তাঁদের দিকে ইঙ্গিত করে জনতার উদ্দেশে অভিষেকের প্রশ্ন, “এঁদেরকে দেখে কি মৃত মনে হচ্ছে? এঁরা বেঁচে আছেন—আপনারা দেখছেন। কিন্তু কমিশন নাকি দেখতে পাচ্ছে না! দু’জনের বাড়ি মেটিয়াবুরুজ, একজনের কাকদ্বীপ। এভাবে জ্যান্ত লোকেদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে ভোটার তালিকা থেকে, তাই এই ব়্যাম্প—‘মৃতদের’ হাঁটতে দেখানোর জন্যই।”
এরপরই কেন্দ্র ও কমিশনকে এক বন্ধনীতে রেখে অভিষেকের সাফ বার্তা, “আমরা একজনের নামও কাটতে দেব না। আগামী দিনে তৃণমূল দিল্লিতে যাবে। নেতৃত্ব দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভ্যানিশ কুমাররা তৈরি থাকুন—জ্ঞানেশ কুমার, অমিত শাহ—সবাই ভোটের জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাবেন।”
আগামী ১৯ দিনে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ২৬টি সভা করার পরিকল্পনার কথাও জানান অভিষেক। তার মন্তব্য, “যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা—আজ তারই শুভসূচনা করলাম।”
তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি দক্ষিণ ২৪ পরগণা। তবু কেন এখান থেকেই সূচনা? তার জবাবে অভিষেক বলেন, “শুভ কাজে বেরোতে গেলে বাবা-মায়ের আশীর্বাদ নিতে হয়। কালীঘাট আমার জন্মভূমি, দক্ষিণ ২৪ পরগণা আমার কর্মভূমি। বাম আমলে এখান থেকেই পালাবদলের শুরু হয়েছিল। তাই এখান থেকেই ছাব্বিশের প্রচার শুরু করলাম।”
কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, এটা শুধু একটা নির্বাচন নয়, এটা মানুষের মরণ বাঁচন লড়াই। অভিষেকের কথায়, "তৃণমূল জিতলে দু'মুঠো ভাত, আর বিজেপি থাকলে ধর্মে ধর্মে আঘাত!"
২০১৪ সালে দেশের ক্ষমতায় বসার সময় বিজেপির স্লোগান ছিল বছরে ২ কোটি চাকরি। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, "বছরে ২ কোটি চাকরি দেবে বলেছিল, ১১ বছরে কত চাকরি হয়?বাংলার কথা ছেড়ে দিলাম, গুজরাট বা উত্তরপ্রদেশে যদি দেখাতে পারে এক একটা বিধানসভায় অন্তত ৫ হাজার চাকরি দিয়েছে, তাহলে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখব না।"
সম্প্রতি গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে এক প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। ওই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, "প্যাটিস বিক্রেতাকে মারছে, এর জবাব বাংলা দেবে না? দিল্লির বাবারা ঠিক করবে? ২ মাসে ৫৬টা প্রাণ .চলে গেছে। মায়েরা জবাব দেবেন না?"
খানিক থেমে জবাবও দিয়েছেন অভিষেক নিজেই। বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করে বললেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন আছে, বাংলার মানুষের দিকে চোখ তুলে তাকালে গণতান্ত্রিক উপায়ে ২১, ২৪ এর পুনরাবৃত্তি হবে ছাব্বিশেও।" গতবারের চেয়ে তৃণমূল একটা হলেও বেশি আসন পাবে জানিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, এবারে জেলার ৩১টার ৩১টাতেই জিততে হবে।
অভিষেকের সুরে সাংসদ-অভিনেত্রী সায়নী ঘোষও বলেন, "যতই করো ইডি-সিবিআই-এসআইআর এই বাংলা ছাব্বিশেও মমতার।"