পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস ঋষিন ইসমাইলকে সরাল নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন
শেষ আপডেট: 25 March 2026 21:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচন ঘোষণার পর এবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনে বড় রদবদল ঘটিয়ে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। ভোট কর্মীদের তালিকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের’ (Contractual Employees) নাম ঢোকানোর অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হল বর্তমান জেলাশাসক ইউনিস ঋষিন ইসমাইলকে। তাঁর পরিবর্তে জেলার নতুন জেলাশাসক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইএএস অফিসার নিরঞ্জন কুমারকে। SIR পর্বে নিরঞ্জন কুমারকে রোল অবজার্ভার হিসেবে রাখা হয়েছিল। এবার তাঁকেই শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় ডিইও করা হল।
কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত?
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, পোলিং ডিউটি বা ভোটের কাজের জন্য নির্দিষ্ট ডেটাবেসে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের রাখা যায় না। কমিশনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল যে, পূর্ব মেদিনীপুরে এই নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর কমিশন একে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করে এবং জেলাশাসককে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বুধবার (২৫ মার্চ) প্রকাশিত এক চিঠিতে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ২০০৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার নিরঞ্জন কুমারকে অবিলম্বে এই দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে। আগামীকাল, অর্থাৎ ২৬ মার্চ সকাল ১১টার মধ্যে তাঁর কাজে যোগ দেওয়ার রিপোর্ট কমিশনকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে।
কমিশন কেবল জেলাশাসককে সরিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত অপরাধী কারা তা চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিষয়টির গভীরে গিয়ে একটি বিস্তারিত তদন্ত (Detailed Enquiry) করতে। কারা এই অনিয়মের জন্য দায়ী, তাঁদের চিহ্নিত বা দায়বদ্ধ (Fix Responsibility) করতে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে এই তদন্তের রিপোর্ট কমিশনের হাতে তুলে দিতে।
ভোটের মুখে মেদিনীপুরের মতো স্পর্শকাতর জেলায় জেলাশাসক বদল হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, প্রশাসনের একটি অংশ পক্ষপাতিত্ব করার চেষ্টা করছে, যার প্রমাণ কমিশনের এই হস্তক্ষেপ। অন্যদিকে, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশনের এই সক্রিয়তাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের কাজের চাপ সামাল দিতে নবান্নের কাছে অতিরিক্ত অফিসার চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে পাঁচজন ডাব্লুবিসিএস (এগজিকিউটিভ) পর্যায়ের আধিকারিককে কমিশনের অধীনে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই আধিকারিকরা সরাসরি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) অধীনে কাজ করবেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কমিশনের এই বিশেষ দায়িত্বেই বহাল থাকবেন। মূলত অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে।