নন্দীগ্রামে কর্মিসভার পরিকল্পনা থাকলেও তা কার্যত বড় জনসমাবেশে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, এই বিপুল উপস্থিতিই দেখিয়ে দিচ্ছে, নন্দীগ্রামের মানুষের আস্থা এখনও তাঁদের দিকেই রয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 25 March 2026 19:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রচার শুরু করেই নন্দীগ্রামে (Nandigram) কর্মিসভা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। দলীয় সংগঠনকে শক্ত করার পাশাপাশি ভোটের লড়াইয়ের রূপরেখা স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন তিনি। একইসঙ্গে কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, এবারের ভোটে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে জয়ী করে নন্দীগ্রামকে পবিত্র করতে হবে।
নন্দীগ্রামে কর্মিসভার পরিকল্পনা থাকলেও তা কার্যত বড় জনসমাবেশে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, এই বিপুল উপস্থিতিই দেখিয়ে দিচ্ছে, নন্দীগ্রামের মানুষের আস্থা এখনও তাঁদের দিকেই রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই জয় শুধু রাজনৈতিক সাফল্য নয়, নন্দীগ্রামের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াই। তিনি বলেন, এই জয়ের মধ্য দিয়েই এলাকা নতুনভাবে আত্মপরিচয় ফিরে পাবে। দলীয় কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে তাঁর সংযোজন, আসন্ন নির্বাচনে যে লড়াই হবে তা স্বাধীনতার লড়াইয়ের সমান।
গত পনেরো দিন ধরে চলা ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক জানান, এই উদ্যোগে মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁর কথায়, প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ সেখানে এসে পরিষেবা নিয়েছেন এবং তাঁদের সমর্থন ও আশীর্বাদ জানিয়েছেন। যদিও এই কর্মসূচি ঘিরে নানা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল, তবুও মানুষের সাড়া সব জল্পনাকে ভাসিয়ে দিয়েছে।
এই সভা থেকেই বড় ঘোষণা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জানান, নন্দীগ্রামে প্রতি বছর ‘সেবাশ্রয়’ (Sebaashray) শিবির আয়োজন করা হবে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি করে শিবির হবে এবং দুই ব্লকে তৈরি হবে দুটি আধুনিক মানের শিবির। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন, যদি পবিত্র করকে জয়ী করা যায়, তবে এই উন্নয়নমূলক উদ্যোগ আরও জোরদার হবে। অভিষেক স্পষ্ট করেন, ভোটে জিতলে নন্দীগ্রামে রাজ্য সরকার করবে 'দুয়ার স্বাস্থ্য' (Duyare Sastho) এবং পবিত্র কর করবেন 'সেবাশ্রয়'। দুটিই একসঙ্গে হবে।
নন্দীগ্রামের ভোটকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এই ভোট শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং এই এলাকার মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন। ২০২১ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে যেসব বুথে ফল ভাল হয়নি, সেগুলিতে নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলার নির্দেশ দেন তিনি।
গ্রামের পরিকাঠামো নিয়েও অভিযোগ তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, রাস্তা বা পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার সদুত্তর না দিয়ে অন্য প্রসঙ্গ তুলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়।
সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের মাটি থেকেই সংগঠন, উন্নয়ন এবং মানুষের আস্থা - এই তিনকে সামনে রেখে লড়াইয়ের রূপরেখা স্পষ্ট করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।