বৈঠকে যাওয়ার সময়ে দৃশ্যত যতটা নিরুদ্বেগ ছিলেন মনোজ পন্থ, বেরিয়ে আসার পর ঠিক ততটাই শান্ত দেখায় তাঁকে।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 13 August 2025 22:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য সরকারের চার জন অফিসারকে সাসপেন্ড করার প্রশ্নে নবান্ন ও নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সংঘাতের পারদ দিল্লি পৌঁছে গেছে। কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল, বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে মুখ্য সচিব মনোজ পন্থকে (Manoj Pant) দেখা করতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC Gyanesh Kumar) জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে।
মনোজ পন্থ সুশীল ও ঠাণ্ডা মাথার আমলা বলে পরিচিত। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ পাওয়ার পর বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার মধ্যেই এদিন নয়াদিল্লির অশোক রোডে নির্বাচন সদনে পৌঁছে যান। তার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠকের পর বেরিয়ে আসেন মুখ্য সচিব।
এদিন বৈঠকে যাওয়ার সময়ে দৃশ্যত যতটা নিরুদ্বেগ ছিলেন মনোজ পন্থ, বেরিয়ে আসার পর ঠিক ততটাই শান্ত দেখায় তাঁকে। তবে তখনই সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের জবাব দিতে তিনি চাননি। তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থকে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ৭ দিনের মধ্যে কমিশনের নির্দেশ পালন করে রিপোর্ট দিতে হবে। অর্থাৎ ভোটার তালিকায় নতুন ভোটারের নাম ঢোকানের ব্যাপারে অনিয়মের অভিযোগে যে ৪ জন অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল কমিশন, তা পালন করতে হবে। শুধু তা নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর-ও দায়ের করতে হবে।
রাজ্যের অফিসারদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সাসপেন্ড করতে চান না তা খোলাখুলিই জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মুখ্য সচিবকে বলেন, আপনি কেন কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করলেন না।
জবাবে মুখ্য সচিব জ্ঞানেশ কুমারকে বলেন, রাজ্য সরকার ওই চার জন অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে। তা ছাড়া দুজনকে কমিশনের কাজ থেকে সরানো হয়েছে।
এতে সন্তুষ্ট হননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, আমরা আপনার জবাব দেখেছি। কিন্তু একটা সোজা কথা, আপনাকে একটা সাধারণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেটা মানতে অসুবিধা কোথায়। যেখানে নির্বাচন কমিশন সুপারিশ করছে, আপনাদের তো সেটা মানতে অসুবিধা ছিল না। কমিশনের এক্তিয়ার তো জানেন।
সূত্রের খবর, জবাবে মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ বলেন, হ্যাঁ আমিও অনেকগুলো নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছি। কমিশনের নিয়ম জানি। তবে এটা তো একটা সরকারের ব্যাপারে। প্রশাসনিক বিষয় কেমন ভাবে এগোয় নিশ্চয়ই আপনারা জানেন।
এর পরেও কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সব নির্দেশ কার্যকর করতে হবে। তাতে আবার মু্খ্য সচিব বলেন, এর মধ্যে তো অনেকগুলো ছুটি আছে। কমিশন তখন বলে, ঠিক আছে ৭ দিন সময় নিন।
কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এদিনের বৈঠকে মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ বুঝিয়ে দেন যে, চার জন অফিসারকে সাসপেন্ড করার বিষয়টি তাঁর একার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে না। মুখ্যমন্ত্রী কী সিদ্ধান্ত নেন তার উপর নির্ভর করছে। বড়জোর তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়মটা জানাতে পারেন। সুতরাং কমিশন ৭ দিনের মধ্যে যেভাবে নির্দেশ বাস্তবায়িত করতে বলেছে, সে ব্যাপারে তাই এদিন স্পষ্ট করে কোনও জবাব দিয়ে আসেননি মনোজ পন্থ। কলকাতায় ফিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তা জানাবেন বলেই কমিশনকে ইঙ্গিত দিয়ে এসেছেন।
অর্থাৎ বিষয়টি এখন নবান্নের কোর্টে। এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী কী সিদ্ধান্ত নেন সেটাই আসল কথা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এই অবস্থায় সরকার আদালতের কাছে যাবে কিনা তাও দেখার।