বিধানসভা নির্বাচনের কয়েকমাস বাকি থাকতেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সংঘাতের ছবি ফুটে উঠেছে। কমিশন তলবের নোটিস পাঠিয়ে বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল মনোজ পন্থকে।

দিল্লি রওনা দিলেন মনোজ পন্থ
শেষ আপডেট: 13 August 2025 10:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কমিশন বলার পরও নির্বাচনী কাজে যুক্ত পাঁচ সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ মানেনি রাজ্য। 'ডেডলাইন' পেরিয়ে যেতেই মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে তলব করে কমিশন। তিনি যাবেন বলেই জানিয়ে দিয়েছিলেন। সেইমতো বুধবার সকালেই দিল্লি রওনা দিলেন মুখ্যসচিব।
বিধানসভা নির্বাচনের কয়েকমাস বাকি থাকতেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সংঘাতের ছবি ফুটে উঠেছে। কমিশন তলবের নোটিস পাঠিয়ে বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল মনোজ পন্থকে। এদিন সকালেই কলকাতা বিমানবন্দরে দেখা যায় তাঁকে। সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।
দেশজুড়ে এসআইআর বা নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে। এই কাজে রাজ্যের চার নির্বাচনী কর্মী এবং এক অস্থায়ী কর্মীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। সেই ভিত্তিতেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাঁদের সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয়। বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে। যদিও কমিশনের এই ভূমিকার সমালোচনা করে প্রকাশ্য সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, কোনও কর্মীকে সাসপেন্ড করা হবে না। এমনকী ভোট ঘোষণার আগে কমিশনের এই তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এরপরই কমিশনের তরফে রাজ্যের কাছে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চাওয়া হয়। সিদ্ধান্ত না মেনে রাজ্য প্রশাসন ওই কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না করে শুধুমাত্র দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। তারপরই কমিশনের তরফে এই তলব নোটিস ধরানো হল।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এটা শুধুই নির্দেশ না মানা নয়, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার প্রশ্ন। তাই মুখ্য সচিবকে সরাসরি ডেকে পাঠিয়ে, কেন নির্দেশ মানা হল না, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের আগে কমিশনের এমন কড়া ভঙ্গি এবং রাজ্যের দ্রুত সাড়া, রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে। পাল্টে গেল কি নবান্নর কৌশল (Nabanna's strategy)? অতীতে একাধিকবার দেখা গিয়েছে, কমিশনের নির্দেশ নিয়ে টানাপোড়েনে যেত রাজ্য সরকার। কখনও চিঠি চালাচালি, কখনও চুপচাপ উপেক্ষা। এবার সেই পথে হাঁটছে না প্রশাসন, এমন ইঙ্গিতই মিলছে। যদিও এনিয়ে সরকারি স্তরে কেউ কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।