সূত্রের খবর, আগামিকাল বিকেলে মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে তলব করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 12 August 2025 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার নির্বাচনী অফিসার-সহ পাঁচজনকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি রাজ্যে। বরং, বিতর্কিতভাবে ওই কর্মীদের শুধুমাত্র নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আর সেই ‘আজ্ঞা অমান্য’ নিয়েই এবার রাজ্যকে (West Bengal Government) জবাবদিহির মুখে ফেলল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।
সূত্রের খবর, আগামিকাল (বুধবার) বিকেলে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে (Chief Secretary ) দিল্লিতে হাজিরা দিতে বলেছে কমিশন। মুখ্যসচিবকে তলব করে নির্বাচন কমিশনের তরফে পাঠানো হয়েছে আনুষ্ঠানিক নোটিস। জানা যাচ্ছে, বুধবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে কমিশনের মুখোমুখি হাজির হতে বলা হয়েছে।
কী হয়েছিল?
দেশ জুড়ে এসআইআর বা নিবিড়ি ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে। এই কাজে রাজ্যের চার নির্বাচনী কর্মী এবং এক অস্থায়ী কর্মীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। সেই ভিত্তিতেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাঁদের সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয়। বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে। যদিও কমিশনের এই ভূমিকার সমালোচনা করে প্রকাশ্য সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, কোনও কর্মীকে সাসপেন্ড করা হবে না। এমনকী ভোট ঘোষণার আগে কমিশনের এই তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এরপরই কমিশনের তরফে রাজ্যের কাছে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাবদিহি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত না মেনে রাজ্য প্রশাসন ওই কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না করে শুধুমাত্র দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। তারপরই কমিশনের তরফে এই তলব নোটিস ধরানো হল।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এটা শুধুই নির্দেশ না মানা নয়, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার প্রশ্ন। তাই মুখ্য সচিবকে সরাসরি ডেকে পাঠিয়ে, কেন নির্দেশ মানা হল না, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কমিশনের সম্পর্ক নিয়ে জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। এখন দেখার মুখ্য সচিব কমিশনের ডাকে সাড়া দিয়ে দিল্লিতে হাজির হন নাকি রাজ্যের তরফে অন্য কোনও পদক্ষেপ করা হয়।