২০২২ সালে প্রকাশ্যে আসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলা (Recruitment Scam)। টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে ইডি-সিবিআই (ED-CBI)।
.jpg.webp)
ব্রাত্য বসু (ফাইল চিত্র)
শেষ আপডেট: 31 August 2025 00:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬ হাজার চাকরি বাতিল ইস্যুতে কার্যত কোণঠাসা রাজ্যের তৃণমূল সরকার (TMC)। বিরোধী দল থেকে শুরু করে চাকরি হারিয়ে 'যোগ্য' শিক্ষকদের একাংশ শাসক দলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। এরইমধ্যে শনিবার 'দাগি' শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করেছে রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। এরপরই পরিস্থিতি আরও সরগরম। এবার কি করবে রাজ্য, এই 'দাগি' তালিকা (SSC Tainted List) নিয়ে কী জানালেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে তালিকা প্রকাশ হয়েছে। আমাদের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (শ্রীরামপুর সাংসদ) বিষয়টি দেখছেন। এসএসসিও (SSC) তাদের দায়িত্ব পালন করছে। আমরাও কোর্ট যেভাবে বলছে, তেমন কাজ করছি।'
২০২২ সালে প্রকাশ্যে আসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলা (Recruitment Scam)। টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে ইডি-সিবিআই (ED-CBI)। তিন বছর পরও জেলবন্দি তিনি। প্রসঙ্গত, ২০২১-সালে ব্রাত্য বসুকে শিক্ষামন্ত্রী করা হয়। গত বছর কলকাতা হাইকোর্ট ২০১৬-র প্যানেল বাতিল করে দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে রাজ্য। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করে শীর্ষ আদালত। এরপর বিস্তর জলঘোলা হয়।
অবশেষে শনিবার রাত ৮টা নাগাদ 'দাগি'দের তালিকা প্রকাশ করে এসএসসি। ৩৩ পাতার তালিকায় নাম রয়েছে ১ হাজার ৮০৪ জনের। চাঞ্চল্যকর তথ্যটি হল, এঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জন নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। নাম মিলিয়ে এদিন ২ হাজার ১৬০টি অ্যাডমিট বাতিল করে স্কুল সার্ভিস কমিশন।
এনিয়ে 'যোগ্য' চাকরিহারাদের বক্তব্য, 'চাল-কাঁকড় আলাদা করা গেল কিন্তু আমাদের শাস্তি লাঘব হয়নি।' চাকরিহারা 'যোগ্য' শিক্ষকদের আন্দোলনের অন্যতম মুখ চিন্ময় মণ্ডল (Chinmay Mondal) বলেন, "আমরা বারবার বিকাশ ভবন, নবান্নে জানিয়েছি এই তালিকা প্রকাশ করার কথা। দু'বছর ধরে অনুরোধ করেছি, দাবি জানিয়েছি। যখন দরকার ছিল তখন শুনল না। আজকে চাকরি চলে যাওয়ার পর, পরীক্ষার আগে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাধ্য হয়ে তালিকা দেওয়া হল।"