সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় আগামী সপ্তাহে তাঁদের কলকাতার দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এর আগেও এই মামলায় কুন্তল ঘোষকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

মণীশ জৈন এবং কুন্তল ঘোষ
শেষ আপডেট: 11 March 2026 13:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) আগে আবারও গতি বাড়ছে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে (SSC Recruitment Scam)। কয়লা পাচার মামলার পাশাপাশি এবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ কেলেঙ্কারিতেও সক্রিয়তা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডি (ED)। এই মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষাসচিব মণীশ জৈন (Manish Jain) এবং হুগলির বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষকে (Kuntal Ghosh) আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।
সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় আগামী সপ্তাহে তাঁদের কলকাতার দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এর আগেও এই মামলায় কুন্তল ঘোষকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
অন্যদিকে প্রাক্তন শিক্ষাসচিব মণীশ জৈনকেও আগেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। সেই সময় তিনি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার দফতরে গিয়ে হাজিরা দেন। এবার একই মামলার তদন্তে তাঁকে ফের ডাকা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এর মধ্যেই চলতি মাসের শুরুতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) এবং তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায় (Arpita Mukherjee)-কেও নতুন করে তলব করা হয়েছে। আগামী ১৬ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে তাঁদের হাজিরা দিতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগেই গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর বর্তমানে দু’জনেই জামিনে রয়েছেন। তবে তদন্তকারী মহলের দাবি, স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে পৃথক তদন্তেও তাঁদের নাম বারবার সামনে এসেছে। সেই কারণেই নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বছর নভেম্বর মাসে জামিন পাওয়ার পর থেকেই রাজ্যের রাজনীতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়। বিশেষ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কারণ তিনি নিজেই নির্বাচনে লড়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে খবর ছড়ায়। এই আবহেই আবার তদন্তের জালে তাঁর নাম উঠে আসায় নতুন করে অস্বস্তি বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে অর্পিতা মুখোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার আগে তাঁর একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ উদ্ধার করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। সেই অভিযানে প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা নগদ পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছিল। ঘটনাটি সামনে আসার পর গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল এবং নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়ে ওঠে।