এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন একের পর এক তৃণমূলের প্রার্থীদেরই তলব করা হচ্ছে। ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে বেআইনি অর্থ উদ্ধারে ইডি সক্রিয় হয়েছে ঠিকই, বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ উদ্ধারও হয়েছে।

রথীন ঘোষ, দেবাশিস কুমার এবং সুজিত বসু
শেষ আপডেট: 3 April 2026 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রাক্কালে ফের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র সক্রিয়তা ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় রাসবিহারী কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক এবং তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে আবারও তলব করেছিল ইডি (ED)। শুক্রবার সকালে তিনি নির্দিষ্ট সময়েই হাজিরা দেন সিজিও কমপ্লেক্সে।
একই সময়ে ইডি আরও চাপ বাড়িয়েছে রাজ্যের শাসক দলের উপর। দুই বিদায়ী মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু ও রথীন ঘোষকেও পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তলব করেছে ইডি। তাঁদের যথাক্রমে ৬ এপ্রিল এবং ৮ এপ্রিল হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। ফলে নির্বাচনের মুখে তিন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন একের পর এক তৃণমূলের প্রার্থীদেরই তলব করা হচ্ছে। ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে বেআইনি অর্থ উদ্ধারে ইডি সক্রিয় হয়েছে ঠিকই, বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ উদ্ধারও হয়েছে। কিন্তু সেই অভিযানের পাশাপাশি নির্দিষ্টভাবে শাসকদলের প্রার্থীদেরই কেন ডাকা হচ্ছে, তা নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
জমি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই ইডির তৎপরতা বেড়েছে। এর আগেও কলকাতা এবং সংলগ্ন একাধিক এলাকায় হানা দিয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা। একটি সংস্থার বিভিন্ন দফতরে একাধিকবার তল্লাশি চালানো হয়েছে। তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি দখল সংক্রান্ত অন্তত ১৬ থেকে ১৭টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই গোটা তদন্ত এগোচ্ছে।
তল্লাশি অভিযানের পর দেবাশিস কুমারকে প্রথমবার ডাকা হয়েছিল গত সোমবার। সে সময় ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, একটি মামলার সূত্রেই তাঁকে তলব করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনে আবারও হাজিরা দেবেন। সেই মতো শুক্রবার ফের তিনি হাজির হন। তবে এদিন সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে খুব বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধারাবাহিক তলব এবং তদন্ত ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযান, অন্যদিকে তার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা - এই দ্বিমুখী পরিস্থিতিতে আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।