রাজ্যের সিআইডি-র প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "যে করেছে তাকে আমরা হাতেনাতে ধরেছি। লোকাল পুলিশ নয়, সিআইডি ধরেছে।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 3 April 2026 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রররের সভা থেকে ভোটারদের (West Bengal Assembly Election 2026) বিজেপির বিরুদ্ধে সবাই মিলে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর আবেদন, "ঝাড়ু নিয়ে ভোট দিতে যাবেন। এরা সিপিআইএম-এর থেকেও ভয়ঙ্কর। সব সিপিএম এখন বিজেপি করে। এরা খুব বিষাক্ত।" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "যারা ভোটারদের নাম কেটেছে তাদের একটিও ভোট দেবেন না। যাদের নাম বাদ গেছে তারা তারাতারি ট্রাইব্যুনালে আপিল করুন। দরখাস্তের ফর্ম দিয়ে সাহায্য করুন পার্টি অফিস থেকে।" তাঁর অভিযোগ, "এরা চায় তৃণমূলের ১০-২০টা প্রার্থীর নাম বাতিল করে দিতে।"
মালদার ঘটনা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "একটা ঘটনা বাংলার সম্মান নষ্ট করে দিয়েছে।" আসাদউদ্দিন ওয়েইসিকে আক্রমণ করে তাঁর দাবি, "এটা স্থানীয় মানুষের ভুল নয়। হায়দরাবাদ থেকে এল বিজেপির কোকিল, আর কিছু কমিউনাল লোক। তারা ভোটের সময় বিহারে গিয়ে ভোট ভেঙে বিজেপিকে জিতিয়েছিল। মালদাতেও তারা এই করেছে।"
রাজ্যের সিআইডি-র প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "যে করেছে তাকে আমরা হাতেনাতে ধরেছি। লোকাল পুলিশ নয়, সিআইডি ধরেছে।" তাঁর দাবি, কমিশন স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাশনকে বদলে দিয়েছে এবং তাঁর হাতে কোনও ক্ষমতা নেই। কিন্তু এর মাঝেও সিআইডি তাঁর হাতে রয়েছে। সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে তাঁর দাবি, এখনও তাঁর হাতে সুযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকবে।
তাঁর অভিযোগ, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা বহিরাগত। তিনি আবেদন জানিয়েছেন, "খবর রাখুন বাইরের কারা আসছে। গেস্ট হাউজ বুক করছে, থাকছে। কারা ক্রস বর্ডার টেররিজম করছে।" তাঁর প্রশ্ন, এত সেন্ট্রাল ফোর্স থেকেও কেন এসব রুখতে পারছেন না? আপনাদের আতিথেয়তা দেব আমরা আর আমাদের ভোট লুঠ করে চলে যাবেন তা হতে পারে না।"
প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, "প্রধানমন্ত্রীকে বলুন আমার সঙ্গে এক মঞ্চে ডিবেট করতে। মুখোশ টেনে খুলে দেব। টেলিপ্রম্পটার ছাড়া কোনও কথা বলতে পারে না, শুধু সাজানো ইন্টারভিউ দেয়। আমরা ভুল বললেও সেটা আমরা সংশোধন করি।"
তিনি ডোবল ইঞ্জিন সরকারকে নিশানা করে প্রশ্ন করেন, "বিজেপিকে কেন ভোট দেবেন? সাংসদ হয়ে কিছু করেনি।" বাংলা বলায় অন্যান্য রাজ্যে বাংলার মানুষকে আক্রান্ত হতে হচ্ছে। সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামিদিনে টিকে থাকতে হলে তৃণমূলকে ভোটে জেতাতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, "আগে মণিপুর সামলান তারপর বাংলার দিকে তাকান মোটা ভাই। সঙ্গে আছে এজেন্সি, তাই মোটা ভাইয়ের কত আনন্দ। শুধু ফোন করে আর থ্রেট করে।"
তাঁর আহ্বান, "এবার লড়াই দুরন্ত হতে হবে। নাম কাটার বদলা নিতে হবে।" সংখ্যালঘুদের সাবধান তিনি বলেন, বিহারের মত ভোট কাটার খেলা চলছে। আমার মন বলছে এরা তারাতারি বিদায় নেবে। তার জন্য বাংলার ভোট জেতা জরুরি।" তাঁর অভিযোগ, "ঝড়-জলে মোটা ভাই কোথায় থাকে? নির্বাচন এলেই বসন্তের কোকিল ডাকা শুরু করে।"