অর্জুন মাহাতোর সঙ্গে মানুষের পরিচয় করিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি তৃণমূল স্তর থেকে উঠে আসা নেতা। সাংসদ জানিয়েছেন, অর্জুন নিজে কষ্ট করে বিভিন্ন স্তরে রাজনীতি করে উঠে এসেছেন অর্জুন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 3 April 2026 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরুলিয়ার জয়পুরে তৃণমূলের প্রার্থী অর্জুন মাহাতোর সমর্থনে (West Bengal Assembly Election 2026) শুক্রবার জনসভা করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। অর্জুন মাহাতোর রাজনৈতিক লড়াই আন্দলনের ইতিহাস তুলে ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁকে জেতালে বিধানসভার মানুষের জন্য তিনি কাজ করতে পারবেন। এলাকার সব জায়গায় দৌড়ে বেড়াতে পারবেন। পাশাপাশি, বিজেপি প্রার্থীকে পারিবারিক রাজনীতির ফসল বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
অর্জুন মাহাতোর সঙ্গে মানুষের পরিচয় করিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি তৃণমূল স্তর থেকে উঠে আসা নেতা। তাঁর কোনও পারিবারিক রাজনীতির ইতিহাস নেই। সাংসদ জানিয়েছেন, অর্জুন নিজে কষ্ট করে বিভিন্ন স্তরে রাজনীতি করে উঠে এসেছেন অর্জুন।
অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে বহিরাগত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীর বাড়ি বাঘমুন্ডিতে। এখানে তিনি থাকেন না।" পারিবারিক রাজনীতির কথা তুলে তিনি বলেন, "নিজের কোনও স্বতন্ত্র পরিচয় নেই। বাবা অজিত মাহাতোর পরিচয়ে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছেন।" অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, " অজিতবাবু নিজের ছেলের টিকিটের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গিয়ে সমঝোতা করে এসেছেন।"
জয়পুর বিধানসভার মধ্যে থাকা উনিশটি পঞ্চায়েতে গত পনেরো বছর আগে কী অবস্থা ছিল তা মনে করিয়ে দেব অভিষেক। তিনি বলেন, "আপনারা জানেন এই এলাকা এখন অনেক উন্নত হয়েছে। এখানে আগে বিদ্যুৎ গেলে দু'দিন লাগত ফিরতে। এখন আর বিদ্যুৎ যায় না। গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। বহু দশকের সমস্যা মিটেছে।"
মাওবাদী আন্দলনের কথা মনে করিয়ে তাঁর দাবি, "মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল ছিল এই এলাকা। কিন্তু, এখন রাত ১২টার পরেও মানুষ ঘুরতে পারে রাস্তায়। কুড়মি আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে তাঁর দাবি, "দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তফসিলি কুড়মি ভাইদের লড়াইয়ের পাশে সরকার দাঁড়িয়েছে। রাজ্য ক্যাবিনেটে সম্মতি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে ষষ্ঠ তফসিলের সুপারিশ পাঠিয়েছে। কুড়মালি ভাষাকে তফশিলির অন্তর্ভুক্ত করার করার দাবি মেনে রাজ্য সরকার দাবি জানিয়েছে।" তাঁর অভিযোগ, অজিত বাবুরা এই বিষয়ে প্রশ্ন না করে নিজের ছেলের জন্য ডিল করে এসেছেন।
বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেন, "এখানে বিধায়ক বিজেপি-র। পাশের ঝালদায় বিজেপি সাংসদের বাড়ি। তারা মোদীর রপোর্ট কার্ড এনে প্রমাণ করুক রাজ্যকে কত টাকার সাহায্য করেছে বিজেপি। ওঁরা সেটা করতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।" তিনি বলেন, "আমরা গতবার প্রার্থী দিতে পারিনি। তার পরেও সব সরকারি যোজনার টাকা এখানকার মানুষ পাচ্ছেন।"