শনিবারের বারবেলায় এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তখন প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভিতরে রয়েছেন ইডি অফিসাররা। শুধু তাই নয়, চাকরি কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিযুক্ত প্রসন্ন রায়ের বাড়িতে অফিসে তল্লাশি চলছে।

সুজিত বসু, পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং সুদীপ্ত সেন
শেষ আপডেট: 11 April 2026 11:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোট গ্রহণের আর মাত্র ১২ দিন বাকি। ঠিক এই মাহেন্দ্রক্ষণেই রাজ্যজুড়ে মাটি ফুঁড়ে উঠেছে পুরনো সব দুর্নীতির ছায়া। চিটফান্ড কাণ্ড থেকে শিক্ষা দুর্নীতি, রেশন কেলেঙ্কারি থেকে জমি জট - কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) এবং সিবিআইয়ের (CBI) ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সরগরম কলকাতা থেকে জেলা। শনিবারের বারবেলায় একদিকে যখন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, অন্যদিকে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযুক্ত প্রসন্ন রায়ের ডেরাতেও চলছে তল্লাশি। প্রশ্ন উঠছে, ভোটের এই লগ্নে কি কেবলই তদন্ত, না কি এর নেপথ্যে রয়েছে সুগভীর কোনো মেমোরি গেম?
শনিবারের বারবেলায় এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তখন প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভিতরে রয়েছেন ইডি অফিসাররা। শুধু তাই নয়, চাকরি কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিযুক্ত প্রসন্ন রায়ের বাড়িতে অফিসে তল্লাশি চলছে। ওদিকে দুর্নীতি মামলায় এরই মধ্যে তিন বার তলব করা হয়েছে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু ও খাদ্য মন্ত্রী রথীন ঘোষকে। এ ছাড়া রাসবিহারী আসনের তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারও গত এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যে দুবার ইডি দফতরে চক্কর লাগিয়ে এসেছেন। আবার এরই পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে, ভোটের মধ্যেই জামিন পেয়েছেন সারদা চিটফান্ড কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন। সেই সঙ্গে আরজি কর মামলায় ফের সঞ্জয় রাইকে জেরা করতে নামছে সিবিআই।
প্রশ্ন উঠতে পারে, হঠাৎ করে ভোটের মধ্যেই কেন তেড়েফুঁড়ে নামল সিবিআই ও ইডি?
পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বাংলায় যেমন পুলিশ প্রশাসনের একাংশকে তৃণমূলের দলদাস বলে বিরোধীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ দিয়ে বিরোধী দলের রাজনীতিকদের হেনস্তার অভিযোগ করেন, তেমনই সেই অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও। জাতীয় স্তরে বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করেন, বিজেপি ইডি-সিবিআইয়ের অপব্যবহার করে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের উত্যক্ত করে। ভোটের মধ্যে ইডি-সিবিআইয়ের তৎপরতাকে অনেকেই হয়তো সেভাবে দেখবেন। দুয়ে-দুয়ে চার করার চেষ্টা করবেন অনায়াসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বলেছেন, ভোটের পর যদি বিজেপির আসন সংখ্যায় টান পড়ে, সে জন্য আগে থেকে ব্যবস্থা করে রাখতে চাইছে।
আবার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, ব্যাপারটা তা নয়। বাংলায় একটানা ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার চলছে। সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়মেই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হওয়ার কথা। মমতার সরকারের বিরুদ্ধেও প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার উপাদান অনেক। চিট ফান্ড কেলেঙ্কারি, কয়লা কেলেঙ্কারি, গরু পাচার, শিক্ষা দুর্নীতির অভিযোগ, আরজি কর কাণ্ড মিলিয়ে লম্বা তালিকা। কিন্তু কৌশলগত ভাবে এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআর প্রক্রিয়াকে বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু করতে চাইছে। সেই সঙ্গে বাঙালি ভাবাবেগ বাঙালি অস্মিতাকে কৌশলে সামনে রাখছে। দেখাতে চাইছে, এসআইআরের মাধ্যমে বাংলা ও বাঙালির উপরেই আঘাত হানতে চাইছে দিল্লি।
সম্ভবত সেটা আঁচ করেই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার উপাদানগুলিকে সাধারণ মানুষের রিসেন্ট মেমোরিতে নিয়ে আসার চেষ্টায় রয়েছে ইডি। যাতে ভোটের মধ্যে ওই বিষয়গুলি মানুষের মনে পড়ে যায়, এবং মানুষ কাকে ভোট দেবে তা নির্ধারণে যেন সেগুলি ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে।
এখন কৌতূহলের বড় বিষয় হল, ভোটের মধ্যে কি সুজিত, রথীনদের মধ্যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারে ইডি? এই প্রশ্ন এখন তৃণমূলের মধ্যেও ঘুরপাক খাচ্ছে। সূত্রের মতে, যদি সেরকমই কিছু হয় তাহলে তা এক সপ্তাহের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।