ইডির আরেকটি দল পৌঁছে গিয়েছে নিউ টাউনে প্রসন্ন রায়ের দফতরে। নিয়োগ মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত তথা ‘মিডলম্যান’ হিসেবে পরিচিত প্রসন্নর অফিসেও শুরু হয়েছে ম্যারাথন তল্লাশি।
.jpeg.webp)
পার্থ চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 11 April 2026 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চব্বিশের লোকসভা মিটে গিয়ে এখন দোরগোড়ায় ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026)। আর ঠিক এই সন্ধিক্ষণেই ফের শিরোনামে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল হেভিওয়েট পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। শনিবার সকালে ফের একবার পার্থর নাকতলার বাড়িতে পৌঁছে গেলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আধিকারিকরা (ED Raid At Naktala)। সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল নিরাপত্তা বলয়। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের একবার প্রাক্তন মন্ত্রীর মুখোমুখি হতে চান তদন্তকারীরা, এমনটাই খবর ইডি সূত্রে।
কয়েক বছর কারাবাসের পর সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর আগে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন পার্থ-বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ও। তবে জেল থেকে বেরোলে কী হবে, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়া যে তিলমাত্র থামেনি, তা এ দিন সকালেই স্পষ্ট হয়ে গেল। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের একটি দল যখন নাকতলায় পার্থর বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ই ইডির আরেকটি দল পৌঁছে গিয়েছে নিউ টাউনে প্রসন্ন রায়ের দফতরে। নিয়োগ মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত তথা ‘মিডলম্যান’ হিসেবে পরিচিত প্রসন্নর অফিসেও শুরু হয়েছে ম্যারাথন তল্লাশি।

পার্থর বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী
ইডি সূত্রে খবর, এসএসসিতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বারবার তলব করা হয়েছিল। জামিন পাওয়ার পর একাধিকবার তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠান আধিকারিকরা। কিন্তু প্রতিবারই তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। এমনকি তিনি জানিয়েছিলেন, ইডি চাইলে তাঁকে ভিডিও কলের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে কিংবা তাঁর বাড়িতে এসে কথা বলতে পারে। সিবিআই বা ইডি-র দফতরে সশরীরে যাওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা তাঁর নেই বলেই দাবি করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। মনে করা হচ্ছে, তাঁর এই ‘অজুহাত’ আর শুনতে রাজি হননি তদন্তকারীরা। তাই সটান বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কৌশল নিয়েছে ইডি।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি
শনিবার বেলা ১১টার কিছু আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে ইডির একটি দল নাকতলার বাড়িতে পৌঁছায়। বাড়ির প্রতিটি প্রবেশপথ ঘিরে ফেলে জওয়ানরা। সূত্রের খবর, বেশ কিছু নতুন নথি এবং তথ্যপ্রমাণ হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের, যা নিয়ে পার্থকে সরাসরি প্রশ্ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার লেনদেন এবং প্রসন্ন রায়ের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র নিয়ে আরও গভীরে যেতে চায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। প্রসন্ন রায়ের অফিসে এ দিনের হানা সেই তদন্তেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোটের ঠিক আগে আগে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে ইডির এই সক্রিয়তা নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়িয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তবে অসুস্থতার তত্ত্ব দিয়ে আর কতদিন কেন্দ্রীয় সংস্থার মুখোমুখি হওয়া এড়ানো যাবে, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। নাকতলার বাড়িতে ইডির এই হানা আজ নতুন কোনও নাটকীয় মোড় আনে কিনা, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।