দিন সকালে হঠাৎই বেহালার (Behala News) পাঠকপাড়ায় নিজের পছন্দের চায়ের দোকানে পৌঁছে যান পার্থবাবু। এলাকার মানুষের সঙ্গে জনসংযোগের পাশাপাশি চলে খোশগল্প। তবে জেল-ফেরত নেতার গলায় এ দিন শোনা গেল এক অদ্ভুত সুর।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 21 February 2026 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যালেন্ডারের পাতায় ভোট এগিয়ে আসছে। সাজ সাজ রব রাজনৈতিক মহলে। ঠিক এই আবহেই দীর্ঘ কারাবাস কাটিয়ে চেনা ছন্দে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে ফিরলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। শনিবার সকালে বেহালার পাঠকপাড়ায় নিজের চেনা চায়ের দোকানে বসে কেবল চুমুকই দিলেন না, সেই সঙ্গেই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়েও আফসোস প্রকাশ করলেন তিনি।
এ দিন সকালে হঠাৎই বেহালার (Behala News) পাঠকপাড়ায় নিজের পছন্দের চায়ের দোকানে পৌঁছে যান পার্থবাবু। এলাকার মানুষের সঙ্গে জনসংযোগের পাশাপাশি চলে খোশগল্প। তবে জেল-ফেরত নেতার গলায় এ দিন শোনা গেল এক অদ্ভুত সুর। নিয়োগ দুর্নীতিতে যাঁর নাম জড়িয়েছে, সেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ই (Partha Chatterjee Jail) এ দিন সরব হলেন কর্মসংস্থান নিয়ে। তাঁর কথায়, “নানা দল নানা সময় মানুষকে নানা রকম ভাতা দিয়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থানই সবথেকে আগে হওয়া উচিত। বছরে ২ কোটি চাকরির কথা বলে যদি ২ জনকেও চাকরি দেওয়া না যায়, তবে তা মেনে নেওয়া যায় না। কর্মসংস্থানই আমাদের প্রধান ইস্যু হওয়া উচিত।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নাম না করে এ দিন কেন্দ্রের শাসক দলকেও বিঁধেছেন তিনি।
‘আমি বেনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নই’
নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘ সময় শ্রীঘরে কাটিয়েছেন। তাঁর আমলেই শিক্ষা দফতরে অযোগ্যদের চাকরি পাওয়ার অভিযোগে সরব হয়েছে বিরোধীরা। এ দিন সেই শিক্ষা দফতর প্রসঙ্গে পার্থবাবুর দাবি, “শিক্ষা দফতর একটি স্বশাসিত সংস্থা। আপনারা এত দুর্নীতি নিয়ে বলছেন, কিন্তু এখন যাঁদের বসানো হয়েছে, তাঁরা কি দুর্নীতিমুক্ত? আমি জোর গলায় বলছি, কোনওরকম অনিয়ম বা বেনিয়মের সঙ্গে আমি যুক্ত নই, কোনওদিন ছিলামও না।” এমনকি, যাঁরা তাঁকে ‘কালিমালিপ্ত’ করেছেন, সময় এলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
দল ও নেত্রীর প্রতি আনুগত্য
এত বিতর্কের পরেও তৃণমূল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আনুগত্য যে বিন্দুমাত্র টাল খায়নি, তা এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। দলের দূরত্ব বজায় রাখা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পার্থবাবুর সপাট জবাব, “দল পাশে থাকল কি না, সেটা বড় কথা নয়। আমি তো আছি। সারা রাজনৈতিক জীবনে কোনওদিন অসৎ পথ অবলম্বন করিনি।” নেত্রীর প্রতি অসীম আস্থার কথা জানিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, খাতায়-কলমে ব্রাত্য হলেও মনেপ্রাণে তিনি এখনও ‘ঘাসফুল’ শিবিরেরই সৈনিক।