এই তল্লাশির মূল লক্ষ ছিল আর্থিক প্রতারণা মামলার ঘটনায় অভিযুক্ত পলাতক বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর (Sona Pappu) বাড়ি এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য জায়গা।

শেষ আপডেট: 1 April 2026 20:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের মুখেই ফের তৎপর কেন্দ্রীয় সংস্থা। বুধবার সকাল থেকেই দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই তল্লাশির মূল লক্ষ ছিল আর্থিক প্রতারণা মামলার ঘটনায় অভিযুক্ত পলাতক বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর (Sona Pappu) বাড়ি এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য জায়গা। এর মধ্যে রয়ছে এক সংস্থার কর্ণধারের বাড়িও। জানা গিয়েছে, ভোটমুখি কলকাতায় এই তল্লাসি থেকে মিলেছে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং অস্ত্র।
জানা গিয়েছে, সোনা পাপ্পুর ফার্ন রোডের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র। পাশাপাশি, পাপ্পু ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। কিছুদিন আগে, গোলপার্কের (Golpark) কাঁকুলিয়া রোডে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয় সোনা পাপ্পুকে।
রাসবিহারির বিধায়ক দেবাশিষ কুমারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই সোনা পাপ্পু। ঘটনাচক্রে, সোমবার ইডি ডেকে পাঠায় দেবাশিষ কুমারকে। তারপরেই এই তল্লাশি অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অভিযোগ, নির্মাণকাজের নামে কোটি কোটি টাকা তুলেছে সোনা পাপ্পু আর সেই টাকা তিনি পৌঁছে দিতেন প্রভাবশালীদের কাছে। সেই বিপুল পরিমাণ টাকার সূত্র খুঁজতেই এদিনের অভিযান বলে জানা গিয়েছে।
এই বিষয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, "সোনা পাপ্পুর সঙ্গে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, দেবাশিষ, জাভেদ খানকে অ্যারেস্ট করতে হবে। এই টাকা তৃণমূলের নির্বাচনে খরচ করার জন্য রাখা ছিল।"
ফেব্রুয়ারি মাসে গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকার কাঁকুলিয়া রোড। এলাকাবাসীদের একাংশের দাবি ছিল, তাঁর দলবলই এলাকায় ঢুকে দাদাগিরি ও দখলের চেষ্টা করেছিল। যদিও একের পর এক গ্রেফতারির পরেও সোনা পাপ্পু এখনও অধরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার ৬৭ নম্বর ও ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে শাসকদলের হয়ে যাবতীয় নিয়ন্ত্রণের কাজ করে সোনা পাপ্পু। মাত্র মাসখানেক আগে, পুরসভার বিল্ডিং বিভাগে ৫০–৫৫টি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ জমা পড়ে। প্রতিটি অভিযোগেই উঠে এসেছে সোনা পাপ্পুর নাম। এর আগে ২০২২ সালে তার নাম কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের তালিকায় জুড়ে জেলবন্দি করেছিল কলকাতা পুলিশ। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বেরিয়ে আসে এবং আবার শুরু হয় প্রভাব-প্রতিপত্তি।