কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে পাঠানো রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 4 April 2026 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর রোড শো (Suvendu Adhikari Road Show) এবং মনোনয়ন পর্বে আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতার অভিযোগে চার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে পাঠানো রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
যাঁদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি-টু) সিদ্ধার্থ দত্ত, আলিপুর থানার ওসি প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী, অতিরিক্ত ওসি চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এক সার্জেন্ট সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
নির্দেশে বলা হয়েছে, ৫ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যে এই সাসপেনশন ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে কমিশনকে। অর্থাৎ, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসনকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে। শুধু তাই নয়, যেসব পদে শূন্যতা তৈরি হবে, সেই পদগুলিতে দ্রুত নতুন আধিকারিক নিয়োগের প্রস্তাবও পাঠাতে বলা হয়েছে। কমিশন চাইছে, কোনওভাবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ফাঁক না থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি। সেই জায়গায় কোনও গাফিলতি হলে কমিশন যে কড়া ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না, এই সিদ্ধান্ত তারই ইঙ্গিত। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন - নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনায় কোনওরকম ব্যর্থতা মেনে নেওয়া হবে না।
প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুরে হাজরা মোড় থেকে শুভেন্দুর সমর্থনে রোড শো শুরু করেন অমিত শাহ। মিছিলটি যখন কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির খুব কাছ দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। তৃণমূলের একাংশ মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ দেখালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে চলে ধস্তাধস্তি।
এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এমনকি কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দাকেও নজিরবিহীনভাবে ভর্ৎসনা করেন তিনি। বলেন, “আইপিএস হয়েও কলকাতা সামলাতে পারছেন না? আপনাকে কি নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে?” এরপরই অবশ্য নড়েচড়ে বসে লালবাজার। শোকজ করা হয় ডিসি ২ (দক্ষিণ) সিদ্ধার্থ দত্ত এবং ডিসি ২ (রিজার্ভ ফোর্স) মানস রায়কে। বুধবার ওই এলাকায় নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে ছিলেন এই দুই দুঁদে আধিকারিক। তবে শেষমেশ কড়া পদক্ষেপ নিল কমিশন।