এর আগে এই পদে নিয়োগ করা হয়েছিল প্রাক্তন ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব নিতে অপারগতার কথা কমিশনকে জানান। সেই কারণেই তাঁর পরিবর্তে সুপ্রতিম সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
.jpg.webp)
সুপ্রতিম সরকার
শেষ আপডেট: 4 April 2026 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে আরও এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে (Supratim Sarkar) তামিলনাড়ুতে পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি ওই রাজ্যের পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন থেকে শুরু করে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা - সব কিছুই তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকবে। নির্বাচনী পর্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর সরাসরি নজরদারি চালিয়ে নিয়মিত রিপোর্ট জমা দেবেন তিনি।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, যত দ্রুত সম্ভব নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলা হয়েছে সুপ্রতিম সরকারকে। সূত্রের খবর, তামিলনাড়ুর তিরুনেলভিলি জেলায় মূলত তাঁর দায়িত্ব থাকবে।
এর আগে এই পদে নিয়োগ করা হয়েছিল প্রাক্তন ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব নিতে অপারগতার কথা কমিশনকে জানান। সেই কারণেই তাঁর পরিবর্তে সুপ্রতিম সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
যদিও সু্প্রতিম সরকার এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ সূত্রের খবর, শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাঁর রদবদলের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য ইতিমধ্যে তিনি চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্যের সিইও দফতরে। সেখান থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিসেও সেই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র মারফৎ জানা গেছে।
এদিকে, কমিশনের তরফে জারি হওয়া নির্দেশিকায় পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব ও অধিকার নিয়েও বিস্তারিত বলা হয়েছে। দৈনিক ভাতা ও ভ্রমণ ভাতা পাওয়ার অধিকার থাকলেও বিমানে যাতায়াতের খরচ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক বা দফতরের বাজেট থেকেই বহন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
ছুটি সংক্রান্ত নিয়মও কড়া করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ের ছুটি নিতে হলে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। বিশেষ ক্ষেত্রে জোনাল ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার বা জোনাল ডিরেক্টরের সম্মতি বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ছাড়া কোনও ছুটি বৈধ বলে গণ্য হবে না—এ কথাও স্পষ্ট করেছে কমিশন।
এছাড়া, কোনও ধরনের ছাড় পেতে হলে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে এবং কমিশনের লিখিত অনুমোদন না মিললে তা কার্যকর হবে না বলেও নির্দেশে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবার আরও কড়া নজরদারি চালাতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। সুপ্রতিম সরকারের মতো অভিজ্ঞ আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই বার্তাই স্পষ্ট।