নির্বাচনের সময় বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি বা স্থান পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্ত সাধারণত ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই নেওয়া হয়। বিশেষ করে যেখানে ভোটারের সংখ্যা বেশি বা ভৌগোলিক কারণে সমস্যা রয়েছে, সেখানে সহায়ক বুথ তৈরি কার্যকর ভূমিকা নেয়।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 April 2026 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে ভোটগ্রহণের পরিকাঠামো আরও মজবুত করতে বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। রাজ্যজুড়ে তৈরি হবে ৪ হাজার ৬৬০টি নতুন সহায়ক বুথ (Auxiliary Polling Stations)। পাশাপাশি, ভোটারদের সুবিধার্থে ৩২১টি ভোটকেন্দ্রের স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সমস্ত বুথে ভোটারের সংখ্যা ১২০০-র বেশি, সেখানে চাপ কমাতে অতিরিক্ত সহায়ক বুথ তৈরি করা হবে। এই পরিকল্পনাতেই এত বড় সংখ্যায় নতুন বুথ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এর ফলে ভোটের দিনে ভিড় কমবে এবং ভোটদান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে মোট বুথের সংখ্যা ৮০ হাজার ৬৮১। অতিরিক্ত বুথ তৈরি হয়ে গেলে সেই সংখ্যা বেড়ে হবে ৮৫ হাজার ৩৭৯।
শুধু নতুন বুথই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৩২১টি ভোটকেন্দ্রের অবস্থান বদল করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো বুথের অবস্থান অসুবিধাজনক বা অপ্রতুল হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বুথ বদলের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
প্রথম শর্ত, সহায়ক বুথ তৈরির ক্ষেত্রে কমিশনের নির্ধারিত গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। ভোটকেন্দ্র সংক্রান্ত যে নির্দেশিকা আগে থেকেই রয়েছে, তার নির্দিষ্ট নিয়মাবলি থেকে কোনওভাবেই বিচ্যুতি চলবে না - এ কথা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, কোনও বুথের স্থান পরিবর্তন করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিটি ভোটারকে আলাদা করে জানানো বাধ্যতামূলক। যাতে ভোটের দিন কোনও বিভ্রান্তি না তৈরি হয়, তার জন্য এই পদক্ষেপকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব থাকবে স্থানীয় প্রশাসনের উপরই।
তৃতীয়ত, নতুন সহায়ক বুথ তৈরি হোক বা পুরনো বুথের স্থান পরিবর্তন - দুই ক্ষেত্রেই ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্পষ্টভাবে জানাতে হবে এই পরিবর্তনের কথা। পাশাপাশি, স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলিকেও লিখিতভাবে এই তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়াও, প্রশাসনের সমস্ত স্তরের আধিকারিকদের এই নতুন ব্যবস্থার বিষয়ে অবহিত করতে বলা হয়েছে, যাতে গোটা প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের অভাব না থাকে।
সাধারণত যেখানে ভোটারের সংখ্যা বেশি বা ভৌগোলিক কারণে সমস্যা রয়েছে, সেখানেই এই ধরনের সহায়ক বুথ তৈরি করা হয়। একইভাবে, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান যদি ভোটারদের জন্য অসুবিধাজনক হয়, তাহলে তা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই পদক্ষেপ থেকে পরিষ্কার - ভোট প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ভোটার-বান্ধব করতে এবার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার, মাঠপর্যায়ে এই নির্দেশ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।