ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে রাজ্যে পুলিশ-প্রশাসনে পরিবর্তন আনা হয়েছিল আগেই। তার ওপর মালদহকাণ্ডে (Malda Incident) সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) কড়া পর্যবেক্ষণের পর বৃহস্পতিবার রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের নির্দেশে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা
শেষ আপডেট: 4 April 2026 07:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রচারে বেরিয়ে ভোটারদের ভয় দেখিয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগ। মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) সেই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অবশেষে পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। গ্রেফতার করা হল তৃণমূল নেতা রাজু মণ্ডলকে (Raju Mandal Arrested)। শুক্রবার রাতে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, বহরমপুর তৃণমূলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি রাজু মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্যতা পাওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় ব্যাপক চাঞ্চল্য।
অভিযোগ অনুযায়ী, দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে বেরিয়ে সাধারণ ভোটারদের (Voters) বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখাচ্ছিলেন রাজু। কমিশন সূত্রের খবর, প্রচারের সময় তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, “পদ্মফুলে ভোট দেওয়া যাবে না। যদি ভোট নিয়ে কোনও গোলমাল হয়, ভোট দিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমি বাড়িতে ছানাবড়া-রসগোল্লা পাঠিয়ে দেব। আর যদি ভোট দিতেই হয়, দিতে হবে তৃণমূলকে (TMC)।” আরও জানা যায়, তিনি ভোটারদের এ-ও সতর্ক করেছিলেন যে, প্রতিটি বাড়ির ভোট কোন দিকে যাচ্ছে তা নাকি ক্যামেরায় নজরদারি করা হবে এবং খাতা-কলমে নথিভুক্ত রাখা হবে।
এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত নড়েচড়ে বসে কমিশন। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে রাজ্যে পুলিশ-প্রশাসনে পরিবর্তন আনা হয়েছিল আগেই। তার ওপর মালদহকাণ্ডে (Malda Incident) সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) কড়া পর্যবেক্ষণের পর বৃহস্পতিবার রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল নির্বাচন কমিশন। সেখানে কমিশন স্পষ্ট বার্তা দেয়, প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোট পরিচালনা নিশ্চিত করতেই হবে। মালদহকাণ্ডের তদন্তভার ইতিমধ্যেই এনআইএ-কে দেওয়া হয়েছে।
এই কঠোর অবস্থানের পর শুক্রবার ফের কমিশন নির্দেশ দেয়, ভোটে কোনওভাবেই ভয় দেখানো, প্রভাব খাটানো বা আইনভঙ্গ সহ্য করা হবে না। সেই নির্দেশ পাওয়ার পরই মুর্শিদাবাদের পুলিশ রাজু মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। কমিশনের বক্তব্য, একজন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী, তাই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনও উপায় ছিল না।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এটি রাজ্যের ভোটপরিবেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। যদিও তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যে এই গ্রেফতারি রাজ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।