তদন্তের গতি যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন নাম উঠে আসছে এই ঘটনায়। ইতিমধ্যেই অভিযোগের তালিকায় জড়িয়েছে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী এবং তৃণমূল নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের নাম। বিরোধী শিবিরের দাবি, গত ১ এপ্রিল যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তার শুরু থেকেই নাকি উপস্থিত ছিলেন মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 April 2026 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহের কালিয়াচক কাণ্ড (Maldah Kaliachak Incident) ঘিরে ক্রমেই জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। অবরোধ, অশান্তি এবং বিচারকদের আটকে রাখার অভিযোগে ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে এআইএমআইএম নেতা ও পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম (Mofakkerul Islam)। তাঁকে ধরা হয়েছে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে। একইসঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন মোথাবাড়ি কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রায় কুড়ি জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তের গতি যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন নাম উঠে আসছে এই ঘটনায়। ইতিমধ্যেই অভিযোগের তালিকায় জড়িয়েছে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী এবং তৃণমূল নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের নাম। বিরোধী শিবিরের দাবি, গত ১ এপ্রিল যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তার শুরু থেকেই নাকি উপস্থিত ছিলেন মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি শাখার প্রধান অমিত মালব্য দাবি করেছেন, সাতজন বিচারককে আটকে রাখার ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই সাবিনাকে ওই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল।
এই অভিযোগের জবাবে অবশ্য পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর নাম করে কটাক্ষ করেন। তাঁর কথায়, শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে বরাবরই ভয় পান, বিশেষ করে ভোটের সময়। যদিও কালিয়াচকের ঘটনায় তাঁর কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না, সে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এবারের নির্বাচনে মোথাবাড়ির বদলে তাঁকে সুজাপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। একটি ভিডিওতেও দেখা গিয়েছে, বিডিও অফিসের গেটের সামনে বসে স্লোগান দিচ্ছেন সাবিনা, পাশে জাতীয় পতাকা হাতে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা।
এই আন্দোলনের অন্যতম মূল সংগঠক হিসেবে চিহ্নিত মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতারের পরও নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের নাম ফের অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাগডোগরা হয়ে বেঙ্গালুরু পালানোর চেষ্টা করছিলেন মোফাক্কেরুল। সেই সময়ই বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। তারপর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ।
এদিকে বৃহস্পতিবারই সর্বোচ্চ আদালত কঠোর নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছিল, এই ঘটনার তদন্ত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে করাতে হবে। তার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তদন্তভার দেওয়া হবে জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ-কে। সেই মতো শুক্রবার সকালেই কলকাতায় পৌঁছে যান সংস্থার এক শীর্ষ আধিকারিক। পাশাপাশি এক বিশেষ দল ইতিমধ্যেই মালদহের মোথাবাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। তাঁদের মূল লক্ষ্য—ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা এবং পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখা।
সব মিলিয়ে, কালিয়াচক কাণ্ড এখন আর শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে আটকে নেই। রাজনৈতিক চাপানউতোর, গ্রেফতারি এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত - সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।