বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, এই ইস্যুকে ঘিরে আন্দোলন থামার সম্ভাবনা আপাতত নেই। বরং তিনি আরও বৃহত্তর প্রতিবাদের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মোফাক্কেরুল ইসলাম
শেষ আপডেট: 3 April 2026 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election) আগে মালদহে কালিয়াচকের অবরোধ ও বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় (Maldah Kaliachak Incident) ‘মূল মাথা’ হিসেবে চিহ্নিত মোফাক্কেরুল ইসলাম (Mofakkerul Islam) গ্রেফতার হয়েছেন। তবে ধরা পড়লেও নিজের অবস্থানে অনড় মোফাক্কেরুল। স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্দোলন যেমন চলছে, তেমনই চলবে।
বাগডোগরা হয়ে বেঙ্গালুরু পালানোর চেষ্টা করছিলেন মোফাক্কেরুল ইসলাম, এমনই অভিযোগ। সেই সময় বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবারই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। তার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। এদিকে গ্রেফতার হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মোফাক্কেরুল স্পষ্টত বলেন, ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
#WATCH | West Bengal | Mofakkarul Islam, the alleged mastermind of Kaliachak incident in Malda, was detained by CID at Bagdogra airport
He says, "The protest will continue till the names of the deleted voters get included in the list..." https://t.co/O4mgtTpRqY pic.twitter.com/xAHhjDMvkn— ANI (@ANI) April 3, 2026
তাঁর বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, এই ইস্যুকে ঘিরে আন্দোলন থামার সম্ভাবনা আপাতত নেই। বরং তিনি আরও বৃহত্তর প্রতিবাদের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রসঙ্গত, মালদহ অশান্তির এখনও পর্যন্ত ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এজিজি উত্তরবঙ্গ। শুধু তাই নয়, মালদহ জুড়ে গোটা ঘটনায় মোট ১৯ টি মামলা দায়ের হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টই কড়া নির্দেশে জানিয়ে দিয়েছিল যে কালিয়াচক কাণ্ডের তদন্ত সিবিআই বা এনআইএ-কে দিয়ে করাতে হবে। তার পর নির্বাচন কমিশন ঠিক করেছে, তদন্ত করবে এনআইএ। সেই মোতাবেক শুক্রবার বেলা গড়ানোর আগেই কলকাতায় এসে পৌঁছন এনআইএ-র দুঁদে অফিসার আইজি সোনিয়া সিং। শুধু তাই নয়, ডিআইজি-র নেতৃত্বে প্রায় দুই ডজনের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই মালদার মোথাবাড়ির দিকে রওনা দিয়েছে। তাঁদের মূল কাজ—ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা, এবং ঘটনাপ্রবাহের খুঁটিনাটি জোড়া লাগানো।
কে এই মোফাক্কেরুল ইসলাম?
উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা, বয়স চল্লিশের কোঠায়। এক সময়ে রায়গঞ্জ জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। পরে কলকাতা হাই কোর্টেও নিয়মিত মামলা লড়তেন। হাই কোর্ট চত্বরে তাঁর নিজস্ব চেম্বার রয়েছে। বর্তমানে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কলকাতাতেই বসবাস।
রাজনীতিতেও হাতেখড়ি হয়েছে কয়েক বছর আগে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এমআইএম-এ যোগ দেন তিনি। সেই নির্বাচনে ইটাহার কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থীও হন।
তবে ভোটের ফল খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। গত বিধানসভা নির্বাচনে এমআইএম প্রার্থী হিসেবে মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিলেন মোফাক্কেরুল।