অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে দেউলি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাফিজুল মোল্লা। একটি জনসভা থেকে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। সেখানে নাকি তিনি বলেন, ভোট গণনার পর ‘স্টিম রোলার’ চালানো হবে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 April 2026 12:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে একের পর এক গ্রেফতারিতে চাপে শাসকদল (TMC)। মুর্শিদাবাদের পর এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থেকেও ধরা হল এক তৃণমূল নেতাকে (Canning TMC Leader Arrested)। নির্বাচন কমিশনের সরাসরি নির্দেশেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে দেউলি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাফিজুল মোল্লা। একটি জনসভা থেকে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। সেখানে নাকি তিনি বলেন, ভোট গণনার পর ‘স্টিম রোলার’ চালানো হবে। এই মন্তব্যকে ঘিরেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। বিষয়টি নজরে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশন এবং তাঁকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই পুলিশ হাফিজুল মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে।
এর আগে একই ধরনের অভিযোগে মুর্শিদাবাদে গ্রেফতার করা হয়েছিল তৃণমূলের স্থানীয় নেতা রাজু মণ্ডলকে। তিনি বহরমপুর পুরসভার একটি ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ, দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে গিয়ে তিনি সরাসরি ভোটারদের ভয় দেখিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছনো তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়া যাবে না। এমনকি ভোট দিতে না গেলে বাড়িতে মিষ্টি পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি ভোটারদের সতর্ক করে দাবি করেন, প্রতিটি বাড়ির ভোট কোন দিকে যাচ্ছে তা নাকি নজরদারির আওতায় থাকবে এবং তার হিসেব রাখা হবে।
এই মন্তব্যের একটি ভিডিও সামনে আসতেই তৎপর হয়ে ওঠে নির্বাচন কমিশন। এর আগেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বদল আনা হয়েছিল। তার উপর মালদহের সাম্প্রতিক ঘটনার পর সর্বোচ্চ আদালতের কড়া অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে কমিশন রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনওভাবেই ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি জেলায় অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর পরই কঠোর অবস্থান নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা শুরু হয়। প্রথমে মুর্শিদাবাদে রাজু মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ক্যানিংয়ে একই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় হাফিজুল মোল্লাকে।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই ধারাবাহিক গ্রেফতারি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, নির্বাচন কমিশন এবার কোনও অভিযোগকেই হালকাভাবে নিচ্ছে না। মাঠপর্যায়ে প্রশাসন কতটা কঠোরভাবে এই নির্দেশ কার্যকর করতে পারে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।