দশমীতে ঘট বিসর্জন হতেই ফুলে সাজানো ট্রয় ট্রেনে তোলা হয় মাতৃ প্রতিমা। দার্জিলিং স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে বিশেষভাবে সজ্জিত ট্রয় ট্রেন। একটি খোলা বগিতে স্থান পায় দেবী দুর্গার প্রতিমা।

শেষ আপডেট: 3 October 2025 18:45
সায়ন সাহা দার্জিলিংঃ দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি পথে এবার দুর্গোৎসব যেন অন্য মাত্রা পেল। ১১১ বছরের দুর্গাপুজো অন্যভাবে পালন করল নৃপেন্দ্র নারায়ণ বাঙালি হিন্দু হল। পাহাড়ের বুকে প্রাচীন এই পুজো শুধু স্থানীয় বাঙালি সমাজের গর্ব নয়, ঐতিহ্যের ধারকও বটে। আর সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে এবার মিশে গেল পাহাড়ের আরেক ঐতিহ্য টয়ট্রেন। দেবী বিসর্জনের শোভাযাত্রা হল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (DHR) ঐতিহাসিক ট্রয় ট্রেনে।
ষষ্ঠী থেকে শুরু হয়েছিল উৎসব। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে পাহাড়ি শহরে ঢল নামে স্থানীয় মানুষজন ও পর্যটকদের। রীতি মেনে পুজো তো হয়ই, পাশাপাশি প্রত্যেক দিনই ছিল নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে দশমীর দিনের অপেক্ষায় ছিলেন সবাই, কারণ দার্জিলিংবাসী আগে এমনটা কখনও দেখেননি।
দশমীতে ঘট বিসর্জন হতেই ফুলে সাজানো ট্রয় ট্রেনে তোলা হয় মাতৃ প্রতিমা। দার্জিলিং স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে বিশেষভাবে সজ্জিত ট্রয় ট্রেন। একটি খোলা বগিতে স্থান পায় দেবী দুর্গার প্রতিমা। বাকি দুটি বগি ছিল মহিলা ও প্রবীণ ভক্তদের জন্য সংরক্ষিত। পাহাড়ি পথে এঁকেবেঁকে যাত্রা শুরু করে টয়ট্রেন। গোটা পথ মুখরিত হয় ঢাকের শব্দে। সেই শোভাযাত্রা দেখতে চারপাশে ভিড় জমান স্থানীয় মানুষ ও দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। গন্তব্য রংবুল নদী। ট্রেনটি ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে। বাতাসিয়া লুপে মুহূর্তের জন্য থেমে যায় ট্রেন, যেখানে অসংখ্য মানুষ প্রণাম জানান। তারপর ঘুম স্টেশন পেরিয়ে ট্রেন পৌঁছে যায় রংবুল নদীর তীরে। সেখানেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। আচারের সঙ্গে মিশে যায় আবেগ। এই অভিনব উদ্যোগে দার্জিলিংয়ের মানুষ যেমন গর্বিত, তেমনই পর্যটকরাও উৎফুল্ল। একদিকে ধর্মীয় আবেগ, অন্যদিকে পাহাড়ি পথের রোমাঞ্চ—সব মিলিয়ে দার্জিলিং সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক দুর্গোৎসবের।