অভিযোগ, পুলিশের সামনেই তাঁদের মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলপাইগুড়ি সদর তগেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ছবি- গুগল
শেষ আপডেট: 25 May 2025 13:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রশাসনের নজর এড়িয়েই দিনের পর দিন বাড়ছে বালি মাফিয়াদের (Sand Mafia) দৌরাত্ম। শহরের বুক চিড়ে প্রতিদিনই অবাধে ছুটছে কয়েকশো ডাম্পার। একদিকে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা, অন্যদিকে ক্রমেই সংকটের মুখে ডুয়ার্সের পর্যটন (Dooasr Tourism)। এই পরিস্থিতিতে আমজনতা থেকে শুরু করে পর্যটন ব্যবসায়িরা প্রতিবাদ দেখায়। তার পাল্টা তাঁদের কপালে জোটে মার। খবর সংগ্রহ করতে এসে আক্রান্ত হয় সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও।
অন্যান্য দিনেরর মতোই শনিবার জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার মালবাজারে বালি ও পাথর বোঝাই বেপরোয়া গতিতে ডাম্পারের যাওয়া আসা শুরু হয়। রুখে দাঁড়ায় পথ চলতি সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় ব্যবসায়িরা। পথ অবরোধ করে শুরু হয় বিরোধিতা। বালি মাফিয়াদের সশস্ত্র বাহিনী জড়ো হয়ে হামলা করে তাঁদের ওপর। ঘটনাস্থলে সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা পৌঁছালে তাঁদেরকেও ছাড় দেওয়া হয় না। আক্রান্ত হয় একাধিকজন। এই ঘটনায় আহত সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের অনেকেই মালবাজার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই তাঁদের মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলপাইগুড়ি সদর তগেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
জেলার পুলিশ সুপার উমেশ খন্ড বাহালে গভীর রাতে এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় জানিয়েছেন, কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের ঘটনার নিন্দা করছে জেলা পুলিশ, এবং এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কড়া শাস্তি দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় বারংবার এই বালি পাথর মাফিয়াদের দৌরাত্ম নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এরফলে পর্যটন শিল্পে একটা বড় প্রভাব পড়ছে। পর্যটন ব্যবসায়িদের অনেকেই মনে করছেন, বালি মাফিয়াদের জুলুমের জেরে দেশি বিদেশি পর্যটকরা এই স্থান থেকে বিমুখ হচ্ছেন। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাইছেন তাঁরা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তাঁর বিভিন্ন সরকারি সভায় বালি মাফিয়াদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এরপরও পরিস্থিতির বদল হয়নি। একাধিক জেলায় বালি মাফিয়াদের দাদাগিরি প্রকাশ্যে এসেছে। গত মার্চ মাসেই পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভার এলাকায় দিনে দুপুরে বালি কাটার দৃশ্য সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, পুলিশ-প্রশাসন সবটা জানলেও তারা কেবলই নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন। কোটি কোটি টাকার বালি পূর্ব বর্ধমান থেকে পাচার করা হচ্ছিল কলকাতা ও উত্তরবঙ্গে।
গত মাসেই কুখ্যাত বালি মাফিয়া সুজয় পাল ওরফে কেবুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দেড় কুইন্টাল তামা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, ধৃত কেবু বেআইনি বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত। জাল সরকারি চালান দিয়ে বালি পাচারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।