পাঁশকুঁড়ার এই ঘটনায় (Panshkura Child Death) এবার এক নয়া মোড়। ওই সুইসাইড নোটে (Suicide Note) কেবলই কিশোরের হাতের লেখা নেই

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 25 May 2025 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিপসের প্যাকেট চুরির অপবাদ, অপমানিত হয়ে আত্মঘাতী সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া। গত কয়েকদিন ধরেই এই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। ভাইরাল হয়েছে সুইসাইড নোট। সেখানে লেখা 'মা আমি বলে যাচ্ছি যে আমি চুরি করিনি...।' পাঁশকুঁড়ার এই ঘটনায় (Panshkura Child Death) এবার এক নয়া মোড়। ওই সুইসাইড নোটে (Suicide Note) কেবলই কিশোরের হাতের লেখা নেই, গ্রাফোলজিস্টদের মতে, আরও একজনের হাতের লেখাও রয়েছে সেখানে। উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
খাতার যে পাতায় সুইসাইড নোটটি লেখা হয়েছে তার উপরেই দুই লাইন লেখা রয়েছে। গ্রাফোলজিস্ট বা হাতের লেখা বিশারদদের মতে, সেই লেখার সঙ্গে তথাকথিত সুইসাইড নোটের লেখার মিল কম। এবার প্রশ্ন উঠছে, আদতে কোনটি ওই পড়ুয়ার লেখা? যদি প্রথম লেখাটিই তার হয়ে থাকে তাহলে নোটটি কে লিখল? কেউ কি তাহলে কিশোরের হয়ে সুইসাইড নোটটি লিখে দিয়েছেন? এনিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা! যদিও এই প্রশ্ন ঘিরে দ্বিমত-ও রয়েছে।
তবে কি আত্মঘাতীই হয়েছে ওই কিশোর? নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও বড় কাহিনী? এদিকে মৃত পড়ুয়ার বাবা-মায়ের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথাও কানাঘুষা হচ্ছে। এই অবস্থায় কিশোরের মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বাঁধছে।
ঘটনার সূত্রপাত দিন কয়েক আগেই। সপ্তম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণেন্দু দাস একটি দোকান থেকে চিপসের প্যাকেট নেওয়ার জেরে ‘চুরির’ অভিযোগে অপমানিত হয়। অভিযোগ, এই অপমানে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। শেষে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে ওই কিশোর!
এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, কৃষ্ণেন্দু রবিবার দুপুরে গ্রামেরই শুভঙ্কর দীক্ষিতের খাবারের দোকানে গিয়েছিল চিপস কিনতে। পরিবারের দাবি, দোকানে ডাকাডাকি করেও কাউকে না পেয়ে সে বাইরে রাখা একটি প্যাকেট নিয়ে রওনা দেয়। এরপরই শুভঙ্কর তাকে সাইকেলে যেতে দেখে পিছু ধাওয়া করে এবং জনসমক্ষে চুরির অভিযোগে ধরা হয় তাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই কিশোরকে বাজারে কান ধরে ওঠবোস করানো হয় এবং মারধরও করা হয়।
পরে কৃষ্ণেন্দু তার মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরে। অভিযোগ, এই অপমান সইতে না পেরে সে বাড়িতে ঢুকেই কীটনাশক খেয়ে ফেলে। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাকে।
পাঁশকুড়া থানার অন্তর্গত গোসাইবেড় গ্রামের মর্মান্তিক এই ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা, পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন স্থানীয় বাসিন্দারা, আটক হন ৫ জন। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার শুভঙ্কর দীক্ষিত পলাতক।
এই ঘটনায় অবশ্য অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের স্ত্রী নিশা দীক্ষিত দাবি করেছেন, তাঁর স্বামীকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, 'বাচ্চাটা দোকানে এসেছিল, ওর সামনে থেকে চিপস নিয়ে চলে যায়। শুভঙ্কর বাইক নিয়ে গিয়ে ছেলেটিকে দেখে। ও ভয় পেয়ে চিপস ফেলে দেয়। ও তখন তাকে বকাঝকা করে এবং ছেড়ে দেয়।' নিশা আরও দাবি করেন, 'কোনওরকম হেনস্থা করা হয়নি, বরং ছেলেটি নিজেই ভুল বুঝে মাফ চাইতে থাকে।'