সম্প্রতি বাংলায় কথা বলার অপরাধে মহারাষ্ট্র পুলিশ এ রাজ্যের দুই পরিযায়ী শ্রমিককে বিএসএফের হাতে তুলে দিয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলাদেশি সন্দেহে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা!
শেষ আপডেট: 17 June 2025 13:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় (Bengali) কথা বলার জন্য ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Workers) ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে বলে আগেই সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার এ বিষয়ে নাগরিক সমাজকে (Civil Society) সোশ্যাল মাধ্যমে সরব হওয়ার আহ্বান জানালেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম (Trinamool Rajya Sabha MP Samirul Islam)।
সম্প্রতি বাংলায় কথা বলার অপরাধে মহারাষ্ট্র পুলিশ এ রাজ্যের দুই পরিযায়ী শ্রমিককে বিএসএফের হাতে তুলে দিয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ওই দুই পরিযায়ী শ্রমিককে।
মঙ্গলবার সোশ্যাল মাধ্যমে এ ব্যাপারে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ সামিরুল। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য তৃণমূলের তরফে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তারও পদে রয়েছেন সামিরুল। সোশ্যাল মাধ্যমে নাগরিক সমাজের উদ্দেশে সামিরুলের প্রশ্ন, 'বাঙালি পরিচয়ের জন্য, মাতৃভাষা বাংলা হওয়ার জন্য আর কত দুর্দশা রয়েছে বাঙালির কপালে?' এ ব্যাপারে নাগরিক সমাজকে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত, গত দুদিনে পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ড ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তৎপরতায় ৫ জন পরিযায়ী শ্রমিক কে রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সোশ্যাল পোস্টে সামিরুল লিখেছেন, রাজ্যের বাসিন্দা এবং বৈধ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও বাংলায় কথা বলার অপরাধে মহারাষ্ট্র পুলিশ এদেরকে বাংলাদেশি সন্দেহে বিএসএফ এর হাতে তুলে দিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তাঁদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এরকম আরও কোনও পরিযায়ী শ্রমিককে জোর করে বাংলাদেশি বলে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে কিনা, সেই খোঁজখবর শুরু হয়েছে।
জানা যায়, সম্প্রতি উত্তর চব্বিশ পরগণার বাগদার হরিহরপুরের বাসিন্দা, সম্পর্কে স্বামী স্ত্রী ফজের মন্ডল ও তসলিমা মণ্ডলকেও বাংলাদেশি সন্দেহে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পারার পরই নবান্ন পদক্ষেপ করে। এরপরই তাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়। সামিরুল জানিয়েছেন, বাংলার আর কোনও পরিযায়ী শ্রমিকের ক্ষেত্রে যাতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তাই কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের যাতে ভিন রাজ্যে কাজের জন্য যেতে না হয় সেজন্য পোর্টালও চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে অনেক পরিযায়ী শ্রমিকের বক্তব্য, বাইরের রাজ্যে পারিশ্রমিক বেশি। তাই পাড়ি দেন তাঁরা।