রবিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত খিদিরপুর বাজার। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাজারের একাংশে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 June 2025 13:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খিদিরপুর বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে (Khidirpur Fire Incident) অনেকে দমকল কর্মীদের (Fire Department Workers) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। মঙ্গলবার বিষয়টি ওঠে বিধানসভার আলোচনাতেও। সেখানে দমকল কর্মীদের পাশে দাঁড়ালেন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Basu)।
সুজিত বলেন, "দমকল কর্মীরাও সেনার মতো নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করেন। আমি অনুরোধ করব তাঁদের সম্পর্কে বলতে গেলে একটু ভেবে চিন্তে বলবেন।"
রবিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত খিদিরপুর বাজার। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাজারের একাংশে। ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে প্রায় সাতশো দোকান। দমকলের ২০টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সোমবার দুপুরে বিধানসভা থেকে খিদিরপুরের ওই এলাকায় যান মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister Mamata Banerjee)। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণাও করেন ( announced financial assistance to the affected shops)। যাদের পুরো দোকান পুড়ে গিয়েছে তাদের এক লক্ষ টাকা যাদের দোকানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে তাঁদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানান। এছাড়াও আগামীদিনে এলাকায় স্থায়ী মার্কেটও গড়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, দমকল সময়ে ঘটনাস্থলে না পৌঁছানোর ফলেই আগুন বিধ্বংসী আকার নেয়। এদিন এ ব্যাপারে বিধানসভার আলোচনায় কড়া বিবৃতি দেন দমকল মন্ত্রী।
সুজিত বলেন, "গত ৬ বছর দফতরের মন্ত্রী থাকাকালীন আমি নিজে অন্তত ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে থেকেছি।
রেল ভবনের আগুনে চারজন দমকল কর্মী মারা গিয়েছিলেন। দমকলের কর্মীরা খবর পাওয়ামাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন। দ্রুততার সঙ্গে কাজও করেন। তবু কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে দমকলের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।"
এরপর ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, দমকলের হেডকোয়ার্টারের কাছে প্রথম ফোন আসে রাত ২.০৫ মিনিটে। সঙ্গে সঙ্গে হেডকোয়ার্টার থেকে তিনটি গাড়ি যায়। পরে আরও ২০ টি গাড়ি পৌঁছয়।
সুজিত বলেন, "ফিরহাদ হাকিম রাত তিনটায় ফোন করেন ও ঘটনাস্থলে যান। আমি ছ'টার মধ্যে পৌঁছে যাই। দমকলের ডাইরেক্টর ও ডেপুটি ডাইরেক্টর সহ পদস্থ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছন। দমকলের দেরিতে পৌঁছানোর অভিযোগ বা জল ছিল না বলে যারা বলছেন, তারা ঠিক বলছেন না। ফায়ার ব্রিগেডের গাড়িতে জল ছিল।"