এই সৌজন্যের রাজনীতির নেপথ্যে কি রয়েছে কোনও কৌশল? রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা স্পষ্ট - ভোটের আগে ঐক্যের ছবি তুলে ধরা জরুরি। সেই কারণেই হয়তো প্রকাশ্যে এই ‘মধুর’ সম্পর্কের প্রদর্শন।

দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 4 April 2026 16:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য রাজনীতিতে বহুদিন ধরেই চর্চার বিষয় দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারীর (Dilip Ghosh and Suvendu Adhikari) সম্পর্ক। কখনও সৌজন্য, কখনও ঠান্ডা লড়াই - এই দুইয়ের মিশ্রণেই গড়ে উঠেছে সমীকরণ। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে সেই সম্পর্কেই যেন নতুন মোড়।
নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় হাজির ছিলেন দিলীপ ঘোষ। আবার খড়্গপুরে দিলীপের মনোনয়নের দিন দেখা গেল উল্টো ছবি - সেখানে উপস্থিত শুভেন্দু। শুধু উপস্থিতিই নয়, একে অপরকে পাগড়ি পরানো, মালা পরিয়ে সম্মান জানানো - সব মিলিয়ে মঞ্চে ধরা পড়েছে পারস্পরিক সৌজন্যের দৃশ্য। অতীতের প্রেক্ষাপটে যা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।
এই সৌজন্যের রাজনীতির নেপথ্যে কি রয়েছে কোনও কৌশল? রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা স্পষ্ট - ভোটের আগে ঐক্যের ছবি তুলে ধরা জরুরি। সেই কারণেই হয়তো প্রকাশ্যে এই ‘মধুর’ সম্পর্কের প্রদর্শন।
উল্লেখযোগ্য, গত লোকসভা ভোটে আসন বদল এবং পরাজয়, এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে সস্ত্রীক দিঘার জগন্নাথ ধাম দর্শন - এর জেরে দলের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি রাজ্য সফরে আসা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর হস্তক্ষেপে তিনি আবার দলে সক্রিয় ভূমিকায় ফিরেছেন। সেই পর্ব থেকেই শুভেন্দু-দিলীপ সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়।
যদিও সবটা যে একেবারেই মসৃণ, তা নয়। সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে দিলীপ ঘোষ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ‘পরিচিত মুখ’-এর পক্ষপাতী নন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য পরোক্ষে শুভেন্দুকে লক্ষ্য করেই করা। কারণ, ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু, এবং তাঁকে ঘিরেই সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী জল্পনাও জোরালো। তবুও প্রকাশ্যে কোনও তিক্ততার ছবি সামনে আসেনি। বরং দু’জনেই একে অপরের মনোনয়নে হাজির থেকে সৌজন্যের বার্তাই দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তিত আচরণের পিছনে রয়েছে নির্বাচনী কৌশল। ২০২১ সালে দলের প্রধান মুখ না হলেও, গত পাঁচ বছর বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের অবস্থান অনেকটাই মজবুত করেছেন শুভেন্দু। ফলে ২০২৬-এর ভোটে ফলাফলের দায় তাঁর উপরেও বর্তাবে।
এই পরিস্থিতিতে দলের ভিতরে মতভেদ থাকলেও বাইরে ‘ঐক্যবদ্ধ’ ছবি তুলে ধরাই এখন অগ্রাধিকার - এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাই সম্পর্কের ভেতরে যতই টানাপড়েন থাক, ভোটের আগে প্রকাশ্যে তার ছাপ পড়তে দিতে চাইছে না বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।