সোমবার ছিল অঙ্ক পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই ঘটে গেল সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। সকাল চারটের সময় রায়গঞ্জের এক নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নন্দিনীর মা রেখা বর্মণের
.jpg.webp)
মাধ্যমিক পরীক্ষার সকালে মায়ের মৃত্যু
শেষ আপডেট: 10 February 2026 11:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাধ্যমিক পরীক্ষার (Madhyamik Exam) দিন সকালেই মাকে হারাল এক ছাত্রী। মায়ের নিথর দেহ রেখে চোখের জল মুছতে মুছতে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছল মেয়েটি। নন্দিনী বর্মন (Nandini Barman)- তার জীবনের সবথেকে কাছের মানুষটাকে হারিয়েছে কিন্তু পড়াশোনা-পরীক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা ভোলেনি, এটাই তো তার মায়ের ইচ্ছে ছিল। পরীক্ষার হলে প্রশ্নের উত্তর লিখতে লিখতে বারবার থমকে গিয়েছে তার হাত, স্মৃতিতে ফিরে এসেছে মায়ের মুখটা, তবে কান্না সামলে আবার পরীক্ষায় মন দিয়েছে। তিন ঘণ্টার পরীক্ষা শেষে মায়ের শেষকৃত্যের জন্য চলে যায় শ্মশানে (Daughter performs last rites)।
দুর্গাপুর ভূপালচন্দ্র বিদ্যাপীঠের ছাত্রী নন্দিনী বর্মন (Nandini Barman)। পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল রায়গঞ্জের মাড়াইকুড়া ইন্দ্রমোহন উচ্চ বিদ্যালয়। অসুস্থ মাকে দেখাশোনা করেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল সে। সোমবার ছিল অঙ্ক পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই ঘটে গেল সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। সকাল চারটের সময় রায়গঞ্জের এক নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নন্দিনীর মা রেখা বর্মণের (mother dies before exam)।
সেইসময় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল নন্দিনী। মর্মান্তিক খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। পরিবার-সহ নার্সিংহোমে (Nursing Home) পৌঁছে মায়ের পায়ে প্রণাম করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর এক আত্মীয়র সঙ্গেই পরীক্ষার কেন্দ্রে আসে সে। নির্দিষ্ট আসনেই পরীক্ষায় বসে।
পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক বিশ্বজিৎ মণ্ডল জানিয়েছেন, “মাঝে মাঝে কান্না করছিল মেয়েটি, তবে নিজেকে সামলে নিয়ে পুরো পরীক্ষাটাই দিয়েছে।” পরীক্ষকরাও তাকে মানসিকভাবে সামলাতে সাহায্য করেছেন।
পরীক্ষা শেষে দুপুরে বাড়িতে পৌঁছায়, সেইসময় তার মায়ের দেহ শেষ শয্যায়, ফুল-মালা দিয়ে সাজানো খাটে শায়িত অবস্থায় রাখা। সেই দৃশ্য দেখে ব্যাগ মাটিতে ফেলেই মায়ের মুখ ছুঁয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে নন্দিনী। বাবা শ্যামল বর্মন ধাতস্থ করার চেষ্টা করলেও মাকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কেঁদেছে সে।
পরে পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে দুর্গাপুর শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় মায়ের দেহ। বাবা জানান, “স্ত্রী মৃত্যুর আগে মেয়েকেই মুখাগ্নির কথা বলে গিয়েছিল। ছেলেসন্তান না থাকায় মেয়েই সেই দায়িত্ব পালন করেছে।”