১৮৯৭ সালের বিরল ডিনার মেনু ঘিরে তুমুল কৌতূহল, বরোদার মহারাজা সেই রাতে গোয়ালিয়রের মহারাজাকে কী পরিবেশন করেছিলেন?

ভাইরাল মেনু
শেষ আপডেট: 10 February 2026 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাক্সারি, ইতিহাস আর খাবারের গন্ধ, সব মিলেমিশে এক অদ্ভুত আর্কাইভাল দলিল সামনে এনেছেন মুঘল-দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করা নেহা ভার্মানি (Neha Vermani)। প্রায় ১৩০ বছর আগের এক ডিনারের মেনু। ১৮৯৭ সালের ৩১ জানুয়ারি, গুজরাতের লক্ষ্মী বিলাস প্যালেসে (Laxmi Vilas Palace) মারাঠা শাসক বরোদার মহারাজা (Maharaja of Baroda) আয়োজন করেছিলেন সেই নৈশভোজের। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালিয়রের মহারাজা সিন্ধিয়া (Maharaja Scindia of Gwalior)। আর সেই মেনুতেই যেন ধরা পড়ে বিশ্বের রন্ধনসংস্কৃতির সঙ্গে ভারতীয় রাজকীয় রুচির মিশেল।
ভার্মানি জানান, আর্কাইভ ঘাঁটতে গিয়ে তাঁর হাতে আসে সেই ‘ডিনার মেনু’। সোশ্যাল মিডিয়ায় তা শেয়ার করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, “যা আশা করতেন, তার ধারেকাছেও নয়। উনিশ শতকের ভারতীয় রাজবাড়ির ডিনার-মেনুতে ট্রাফল (Truffles), আর্টিচোকস (Artichokes), আর একগাদা ফরাসি হাই-ফাই নাম!” সত্যিই, ব্রিটিশ আমলের ওই ভোজের তালিকা যেন ফরাসি হট কুইজিনের (French haute cuisine) পাঠ্যপুস্তক, যার মধ্যে মিশে আছে ভারতীয় স্পর্শ।
মেনুতে কী কী ছিল?
শুরুতেই ছিল Iotage d’Amandes—বাদাম দিয়ে তৈরি নরম কাস্টার্ড বা ফ্লান। এরপর Poisson Braise sauce Mayonnaise—মেয়োনেজ সস দেওয়া ব্রেজড ফিশ। ছিল Creme de Volaille truffes—ট্রাফল মেশানো বিলাসী চিকেন ক্রিম স্যুপ। মাংসের অংশে ছিল Cotelettes de mouton a l’Italienne—ইতালীয় স্টাইলে রান্না করা মাটনের কাটলেট। Selle de perdreau rotie aux Petits Pois—রোস্ট পার্ট্রিজের সঙ্গে টাটকা মটরশুঁটি। উল্লেখযোগ্য আরও দুটি আইটেম Fonds d’artichauts a la demi-glace—ডেমি-গ্লাস সসে রান্না আর্টিচোক বটম, আর Curry de Macedoine de Legumes et Ris—সবজি-ভাতের কারি। শেষপাতার দিকে Pommes a la creme—ক্রিমি আপেল, আর ডেজার্টে Glace de Pistachoo—পেস্তার আইসক্রিম।
এই মেনুটি বর্তমানে আমেরিকার একটি আর্কাইভে সংরক্ষিত রয়েছে। ভার্মানি এক্সে পোস্ট করার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়াও নজরকাড়া। কেউ লিখেছেন, পশ্চিমি অভিজাতদের মতোই বাস ও ভোজনরুচি ছিল ভারতীয় রাজাদের—ফ্লোরেন্সের পিত্তি প্যালাজো (Palazzo Pitti) ঘুরে তাঁর সেই অনুভূতি হয়েছে। অন্য একজন বলছেন, “এ ধরনের ভোজের লক্ষ্যই ছিল চমক দেওয়া।” আর একজনের মন্তব্য, “৩১-১-৯৭ মানে এতদিন ১৯৯৭ ভাবতাম। ১৮৯৭ কল্পনার বাইরে।”