এই ঘরোয়া আড্ডার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছিল বাঙালি খাবারের আয়োজনও। অরিজিতের বাড়িতে দুপুরে পরিবেশিত হয় একেবারে দেশি মেনু।

শেষ আপডেট: 3 February 2026 14:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের কোলাহল থেকে বহু দূরে, মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে কাটল একেবারে অন্যরকম একটি দিন। আলো, ক্যামেরা আর নিরাপত্তার বেষ্টনী ছাড়াই সুরের মানুষ অরিজিৎ সিংয়ের (Arijit Singh) বাড়িতে হাজির হলেন অভিনেতা আমির খান (Aamir Khan)। তারকাখ্যাতির কোনও বাড়াবাড়ি নয়—এই সাক্ষাৎ যেন দু’জন শিল্পীর নিভৃত সময় কাটানো মাত্র।
রবিবার রাতে মুর্শিদাবাদে পৌঁছন আমির। পরদিন সোমবার সকালে তিনি যান জিয়াগঞ্জে অরিজিতের বাড়িতে। সেখানে পৌঁছেই শহুরে ছন্দ ঝেড়ে ফেলে একেবারে ঘরোয়া মেজাজে ধরা দেন অভিনেতা। ছাদে উঠে দু’জনে মিলে মেতে ওঠেন ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দে। লাটাই হাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা আমিরকে দেখে অনেকেই বলছেন, ফিরে যাওয়া শৈশবের দিনগুলোয়। স্থানীয়দের কথায়, ঘুড়ি ওড়াতে যথেষ্ট সাবলীল ছিলেন তিনি, আর মাঝেমধ্যেই খেলার উত্তেজনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
এই ঘরোয়া আড্ডার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছিল বাঙালি খাবারের আয়োজনও। অরিজিতের বাড়িতে দুপুরে পরিবেশিত হয় একেবারে দেশি মেনু। সাদা ভাত, বাটার নান, চিকেন ও মাটন কষা, মিক্সড ভেজ এবং পনির বাটার মশলায় জমে ওঠে পেটপুজো। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, অতিথির পছন্দ মাথায় রেখেই সব আয়োজন করা হয়েছিল। তবে মুর্শিদাবাদের কোনও বিশেষ মিষ্টি পাতে পড়েছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।
খাওয়াদাওয়ার ফাঁকেই দু’জনের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলে সুর ও সিনেমা ঘিরে আলোচনা। অরিজিতের স্টুডিওতেই কি নতুন কোনও কাজের সূত্রপাত? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে ভক্তদের মনে। সাম্প্রতিক সময়ে অরিজিতের প্লেব্যাক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং আমিরের আগামী ছবির পরিকল্পনা—এই দু’টি বিষয় মিলিয়ে জল্পনা আরও ঘনাচ্ছে।
একাংশের মতে, এটি শুধুই বন্ধুত্বের টান। আবার কারও ধারণা, আমিরের পরবর্তী কোনও ছবির সঙ্গীত নিয়েই এই সফর। যদিও অরিজিৎ আগেই জানিয়েছেন, নতুন কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি এখন অত্যন্ত সচেতন। তবে পুরনো প্রতিশ্রুতিগুলি তিনি রাখবেন, যার ফলে চলতি বছরে তাঁর কণ্ঠে বেশ কয়েকটি নতুন গান শোনা যেতে পারে।
মুম্বইয়ের ঝলমলে জীবনের ঠিক বিপরীতে, জিয়াগঞ্জের এই নির্লিপ্ত মুহূর্তগুলোই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে। দুই তারকার এই সাধারণ, নিরাভরণ উপস্থিতি দেখে ভক্তদের অনেকেই বলছেন—খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছেও যাঁরা মাটির কাছাকাছি থাকতে পারেন, আসল তারকা তাঁরাই।