সংকটের আঁচ পেতে শুরু করেছেন দেশের সাধারণ মানুষ। গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৬০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ১১৫ টাকা। জোগান আরও কমলে এই দামের গ্রাফ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 April 2026 19:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার আকাশজুড়ে যুদ্ধের (West Asia War) কালো মেঘ আঁচ সরাসরি এসে পড়ছে হেঁশেলের ওপর। এক সরকারি আধিকারিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এলপিজি (LPG) বা রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরও ৩ থেকে ৪ বছর সময় লেগে যেতে পারে (Global LPG supply chain restoration 3-4 years)।
মানিকন্ট্রোলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারি সূত্র জানাচ্ছেন, এই দীর্ঘসূত্রিতার ফলে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর (India LPG import risk) দেশগুলোতে গ্যাসের দাম ও জোগান নিয়ে বড়সড় সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কেন এই দীর্ঘসূত্রিতা?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরান সংঘাতের জেরে কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। এই পথে ড্রোন ও মিসাইল হামলায় কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একাধিক গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং রফতানি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আধিকারিকদের মতে, এই কেন্দ্রগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটা, অর্থাৎ কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে নাকি পরিকাঠামো স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে এই বিশাল পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণ করতে কয়েক বছর সময় লেগে যাবে।
ভারতের ওপর প্রভাব কতটা?
ভারতের জন্য এই খবর অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। কারণ:
ইতিমধ্যেই বেড়েছে দাম
সংকটের আঁচ পেতে শুরু করেছেন দেশের সাধারণ মানুষ। গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৬০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ১১৫ টাকা। জোগান আরও কমলে এই দামের গ্রাফ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
ধ্বংসের মুখে বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র
ইরানের সাউথ পার্স (South Pars) এবং কাতারের নর্থ ফিল্ড, যা বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত, সেখান থেকেই বিশ্বজুড়ে প্রোপেন ও বিউটেন সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই ক্ষেত্রগুলোর ওপর মুহুর্মুহু হামলা চালানোয় উৎপাদন প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছে। আমিরশাহির হাবশান প্ল্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ হাবগুলো এখন কার্যত অকেজো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নার গ্যাসের এই জোগান ঠিক হওয়া কেবল যুদ্ধ থামার ওপর নির্ভর করছে না, বরং ধ্বংস হওয়া পরিকাঠামো পুনরায় গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করছে। আর সেই পথ যে দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল, তা বলাই বাহুল্য।