মালদহের (Malda) ১৭ জন পরিযায়ী শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ (Bangladeshi) সন্দেহে আটক করেছে সে রাজ্যের পুলিশ (West Bengal Police)। পরিবারের দাবি, ভোট দেওয়ার টানেই তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন।

বাংলাদেশি সন্দেহে আটক
শেষ আপডেট: 15 April 2026 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের আগে (West Bengal Assembly Election 2026) ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে ফের হেনস্থার মুখে পড়তে হল বাংলার শ্রমিকদের। ওড়িশার বেলাগুঠা এলাকায় কাপড় ফেরি করতে যাওয়া মালদহের (Malda) ১৭ জন পরিযায়ী শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ (Bangladeshi) সন্দেহে আটক করেছে সে রাজ্যের পুলিশ (West Bengal Police)। পরিবারের দাবি, ভোট দেওয়ার টানেই তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন। আর এই আটকের খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর জুড়ে।
নথিপত্র থাকলেও হেনস্থার অভিযোগ
হরিশ্চন্দ্রপুরের ভিঙ্গল গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈরাট-সহ সংলগ্ন এলাকার ওই ১৭ জন শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরেই ওড়িশায় ফেরিওয়ালার কাজ করেন। তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাঁদের কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চায়। বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কেবল বাংলায় কথা বলার অপরাধে তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ দেগে দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি শ্রমিকদের পরিজনদের। আটক এক শ্রমিকের স্ত্রীর আক্ষেপ, “বাংলায় কথা বলা কি অপরাধ? শুধু এই কারণেই ওদের বাংলাদেশি সাজিয়ে আটকে রাখা হল।”
শমীককে ঘিরে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক সংঘাত
বুধবার এই ঘটনার প্রতিবাদে মালদহে নির্বাচনী প্রচারে আসা বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে তৃণমূলের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। শাসকদলের দাবি, ওড়িশার বিজেপি সরকার পরিকল্পিতভাবে এই হেনস্থা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর পাল্টা বক্তব্য, “পুলিশ নিশ্চয়ই কোনও খুঁত পেয়েছে। যারা প্রকৃত বাংলাদেশি, তাদের এই দেশে কোনও স্থান নেই।”
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানানো হয়েছে, বিজেপি অধমের রাজনীতি করছে। দ্রুত শ্রমিকদের মুক্তি না দেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। আক্রান্ত এক শ্রমিকের দাদার প্রশ্ন, “বাংলাতেও তো অন্য রাজ্যের মানুষ কাজ করেন। এখানে তো কাউকে এভাবে হেনস্থা হতে হয় না। তবে কেন আমাদের লোকেদের বারবার টার্গেট করা হচ্ছে?”
এসআইআর-এর প্রতিবাদ হোক বা নির্বাচনী জনসভা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার পরিযায়ীদের আক্রান্ত হওয়ার কথা বলে এসেছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি হয় না, হিন্দি ভাষায় কথা বললেই পাকিস্তানি হয়ে যায় না। বিজেপিও নিজেদের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছে। কিন্তু ভোটের আগে ফের ওড়িশায় ১৭ জন পরিযায়ী শ্রমিক আটক হওয়ায় আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।