বাংলা নববর্ষে সজীব ওয়াজেদ জয়ের তোপ তারেক রহমান ও ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে। বিদেশি প্রভুদের দখলে দেশ, মৌলবাদ নির্মূলের ডাক।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 15 April 2026 21:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা নববর্ষের সূচনা লগ্নে দেশের দুরবস্থা নিয়ে সরব হলেন শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। বেশ কয়েক মাস পর ফের বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে গুচ্ছ অভিযোগ তুলেছেন জয়। জ্বালানি সংকট, অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং হামের সংক্রমণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে জয় নাম না করে তারেক রহমানের সরকারের সমালোচনা করেছেন। চলতি পরিস্থিতির জন্য কাঠগড়ায় তুলেছেন মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকেও।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে হাসিনা পুত্র দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজ মাধ্যমে দীর্ঘ লেখা পোস্ট করেছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জয় একাধিকবার সমাজ মাধ্যমে নির্বাচন বয়কটের আহ্বান জানান। নির্বাচনের পর থেকে তিনি আর তেমন মুখ খোলেননি। নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জয় লিখেছেন, নতুন বছর আমাদের মাঝে মঙ্গল বয়ে আনুক। মুছে দিক যত জরা, ক্লেশ। এরপরই তাঁর সংযোজন বাংলাদেশের মানুষের জন্য এখন মুক্তি ভীষণ জরুরি। প্রায় দু বছর ধরে দেশের মানুষের ওপর চলছে মৌলবাদ-সন্ত্রাস-মব-দখল-ধর্ষণ-খুনের বুলডোজার।
দল-মত-শ্রেণি-বয়স-শিক্ষা নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তরের মানুষ আজও ভুগছে। ইউনুসের ক্ষমতা দখল আর সান্ধ্যকালীন নির্বাচন দিয়ে দেশকে মবের মুল্লুকে পরিণত করা হয়েছে। একের পর এক সংকটে মানুষের জীবন পর্যুদস্ত। কিন্তু সরকার পরিচালনার দায়িত্ব যারা নিয়েছে তারা শুধু নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধিতেই মনোযোগী।
জয় লিখেছেন, জ্বালানি সংকটে দেশের খেটে খাওয়া কৃষক থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্প, পুরো দেশের অর্থনীতি ভুগছে। কিন্তু দায়িত্বশীলদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করার মত মানসিকতার কারণে ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। দেশে তেল রিজার্ভ করে রাখার মত অবকাঠামো সম্পুর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় থাকার পরেও ব্যবহার না করে ফেলে রাখা শুধু মূর্খতাই নয়, বরং ইচ্ছে করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া। মহেশখালী সিংগেল পয়েন্ট মুরিং সিস্টেম ব্যবহার করে যেমন তেল আমদানিতে সময় বাঁচতো ৯ দিন তেমনি তেল মজুদ রাখার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেত। কিন্তু শুধুমাত্র শেখ হাসিনার উদ্যোগে নির্মিত প্রকল্প হওয়ার কারণে দুই বছরেও প্রকল্পটিকে চালু করা হয়নি। বসিয়ে রেখে ঋণের কিস্তি শোধ করা হচ্ছে যেখানে সুযোগ ছিল বছরে ৮০০ কোটি টাকা আয়ের।
জয়ের কথায়, এই সংকটের মাঝেই আর একটি ভয়ংকর সংকট চলছে যার মূল শিকার আমাদের ছোট্ট শিশুরা। ২০২৫ সালে অবৈধ ইউনুস সরকার অর্ধেকেরও বেশি শিশুকে হামের টিকা না দেওয়ার কারণে এক বছরের মাথায় মাসখানেকের ব্যবধানে শত শত শিশু মারা গেল।
হাসিনা পুত্রের প্রশ্ন, এই দায় কার? আওয়ামী লিগ সরকারের আমলে টিকা দেওয়ার হার ছিল প্রায় শতভাগ। আর ২০২৫ সালে সেটা ছিল ৫৯%। ইউনুস সরকারের গাফিলতির কারণে প্রায় বিলুপ্ত এই রোগ আজ দেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে।
একই সঙ্গে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী বানানো তথ্য দিয়ে বললেন গত ৮ বছর ধরে নাকি টিকা দেওয়া হয়নি। আজ পর্যন্ত হাম মহামারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমান সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। এই সংকটের কারণে যত শিশু হামে মারা গিয়েছে এবং অসুস্থ হয়ে আছে সকল মৃত্যু ও লাঞ্ছনার দায় বর্তমান বিএনপি সরকার ও অবৈধ ইউনুস সরকারের। এই শিশু হত্যাকাণ্ডের জন্য মানুষ তাদেরকে কোন দিন ক্ষমা করবে না। এই হত্যাকান্ডের বিচারের মুখোমুখি একদিন তাদের হতেই হবে।
জয় বলেছেন, এখানেই সংকটের শেষ নয়। ২০২৪ এর অগস্ট থেকে শুরু হওয়া মব আক্রমণ এখনও বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় একজন ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরেছে তৌহিদী জনতা নামধারী উগ্রপন্থী সন্ত্রাসীরা। দেশে আইনের শাসন ইউনুসের আমলেও ছিল না, এখনও নেই। দেশ এখনও উগ্রবাদীদের দখলে। যে উগ্রবাদীরা ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বোমাহামলা করে ১০ জনকে হত্যা করলো, গত বছর পহেলা বৈশাখের সময় আতংক ছড়ালো, বাঙালির ঐতিহ্য মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বন্ধ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতি চালু করার চেষ্টা করলো, সেই উগ্রবাদীরা এখন আরও বেশি ক্ষমতাবান।
সাধারণ মানুষের প্রতি হাসিনা পুত্রের আহবান, উগ্রবাদ-মৌলবাদ-মববাদকে রুখে দাঁড়ান। বাংলাদেশের মানুষের আজ ভয়শূন্য চিত্ত নেই, আমাদের শির আজ বিদেশি প্রভুর কাছে নত করে রাখা হয়েছে। আজ আমাদের জ্ঞান অবরুদ্ধ জঙ্গিদের কালো পতাকার তলে। এই অচলায়তন ভেঙে ফেলতে হবে, মুছে ফেলতে হবে সে সব কিছু যা আমাদের স্বাধীনতা ও ইতিহাসকে নষ্ট করতে চায়। আসুন স্লোগানে স্লোগান মেলাই, মৌলবাদীদের বাংলাদেশ থেকে নির্মূল করি।