সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, নিরাপত্তারক্ষীদের বেষ্টনী ভেঙে বিক্ষোভকারীদের দিকে মেজাজ হারিয়ে তেড়ে যেতে দেখা যায় শুভেন্দু অধিকারীকে। এই ঘটনার জেরে বালি থানার আইসি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 15 April 2026 20:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election Assembly 2026) প্রথম দফার ভোটের ঠিক আট দিন বাকি। তার আগে ধুন্ধুমার কাণ্ড হাওড়ার বালিতে। বুধবার বালির বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিং-এর সমর্থনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) রোড শো-কে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানকে কেন্দ্র করে বচসা গড়ায় ধস্তাধস্তিতে।
সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, নিরাপত্তারক্ষীদের বেষ্টনী ভেঙে বিক্ষোভকারীদের দিকে মেজাজ হারিয়ে তেড়ে যেতে দেখা যায় শুভেন্দু অধিকারীকে। এই ঘটনার জেরে বালি থানার আইসি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার বিকেলে বালির লালবাবা কলেজ থেকে নিমতলা পর্যন্ত রোড শো করার কথা ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। হুডখোলা গাড়িতে চড়ে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার চালাচ্ছিলেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিছিল যখন বালির গোস্বামীপাড়ার কাছে পৌঁছায়, তখনই রাস্তার ধারে থাকা একদল যুবক শুভেন্দুকে লক্ষ্য করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে থাকলে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ে যায়।
বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ক্রমাগত স্লোগান উঠতে থাকায় এক সময় ধৈর্য হারান শুভেন্দু অধিকারী। গাড়ি থেকে নেমে তিনি সরাসরি বিক্ষোভকারীদের দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁর সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে কোনওরকমে আটকে গাড়িতে তোলেন। এর মধ্যেই বিজেপির কর্মী ও স্থানীয় যুবকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বালি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
এই ঘটনার জন্য সরাসরি বালি থানার আইসি-র বিরুদ্ধেই তোপ দেগেছেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে এই অশান্তি পাকিয়েছে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “বালি থানার আইসি-র জন্যই আজ এই বিশৃঙ্খলা। আমরা তাঁর সাসপেন্ড করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হব।” বিজেপির দাবি, শান্ত এলাকাকে অশান্ত করতে বাইরে থেকে লোক এনে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সাধারণ মানুষ বিজেপিকে পছন্দ করছে না বলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এর সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। ২৩ এপ্রিলের ভোটের আগে বালির এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তাপকে যে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। পুলিশ বর্তমানে এলাকায় টহল দিচ্ছে এবং নতুন করে কোনও অশান্তি এড়াতে নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।