অঙ্ক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে নিয়েই অসুস্থ আট পরীক্ষার্থী, চারজনকে হাসপাতালে বসে পরীক্ষা দিতে হল।
মোবাইল উদ্ধার থেকে স্কুলের গাফিলতি, পূর্ব মেদিনীপুরে টানটান উত্তেজনার মধ্যে সোমবার হল মাধ্যমিক পরীক্ষা।

মাধ্যমিক পরীক্ষা (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 10 February 2026 08:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অঙ্ক (Mathematics) পরীক্ষা শুরু হতেই কারও মাথা ঘুরছে, কারও হাত-পা অবশ, কারও আবার গা গুলোচ্ছে—এমনই চিত্র দেখা গেল সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরে (East Midnapore)। জীবনে প্রথম বড় পরীক্ষা, রাত জাগা পড়াশোনা আর মানসিক চাপে মোট আটজন মাধ্যমিক (Madhyamik) পরীক্ষার্থী একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে সোমবার। তারমধ্যে চারজনকে নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতাল (Nandigram District Hospital) ও এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে (Egra Super Specialty Hospital) বসেই পরীক্ষা দিতে হয়। বাকিদের সেন্টারে মেডিক্যাল টিম সাহায্য করে।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কঠিন ছিল না—বেশিরভাগ পড়ুয়ারই দাবি, “প্রশ্ন ভাল ছিল, পরীক্ষা দুর্দান্ত হয়েছে।” তা সত্ত্বেও অঙ্ক পরীক্ষার ভয়েই অসুস্থ হয়ে যায় কয়েকজন।
এদিন হলদিয়ার বাড়ঘাসিপুর হাইস্কুল সেন্টারে এক ছাত্রের মোবাইল (Mobile Phone) উদ্ধার হয়। চকদ্বীপা হাইস্কুলের ওই পড়ুয়ার পরীক্ষা সরাসরি বাতিল হয়ে যায়।
সবচেয়ে আলোচনায় নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের রাজা রামচক শিক্ষানিকেতনের ছাত্র শেখ রাকিবুল ইসলাম। নন্দীগ্রাম ব্রজমোহন গার্লস হাইস্কুলে (Brajmohan Girls High School) পরীক্ষা দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তৎক্ষণাৎ অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্যালাইন দেওয়ার পর হাসপাতালেই বসে পরীক্ষা দেয় সে। সেন্টার সেক্রেটারি নন্দিতা রক্ষিত দিন্দা (Nandita Rakshit Dinda) নিজে হাসপাতালে যান, পুলিশও পৌঁছে যায়।
ঠিক একইভাবে আশদতলা নিবেদিতা কন্যা বিদ্যামন্দিরে (Nivedita Kanya Vidyamandir) পরীক্ষা দিচ্ছিল মনুচক মিলন বিদ্যাপীঠের ছাত্র সুজন পাত্র। অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে স্যালাইন দিয়ে পরীক্ষায় বসানো হয়।
পটাশপুর-২ ব্লকের খাড় হাইস্কুল সেন্টারেও দুই ছাত্রী—এগরা স্বর্ণময়ী গার্লস হাইস্কুলের সঞ্জনা দাস এবং পাঁচরোল হাইস্কুলের সঙ্গীতা ঘোড়ই—অসুস্থ হয়ে পড়ে। দু’জনকেই এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। পাঁশকুড়া ও ময়নার কয়েকটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটে, তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
এদিনই পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক মাধ্যমিক সেন্টার পরিদর্শনে যান মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় (Ramanuj Gangopadhyay)। সঙ্গে ছিলেন জেলা কনভেনার সত্যজিৎ কর (Satyajit Kar)। নন্দকুমারের ব্যবত্তারহাট আদর্শ হাইস্কুল, শ্রীকৃষ্ণপুর হাইস্কুল, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ডিমারি গার্লস এবং রামচন্দ্রপুর হাইস্কুল ঘুরে দেখে তিনি জানান, “পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবেই হচ্ছে। কিন্তু মোবাইল উদ্ধারের ঘটনা বাড়ছে। যারা ধরা পড়ছে, তাদের পরীক্ষা বাতিল হচ্ছে।”
রামানুজবাবুর অভিযোগ, ফর্ম ফিলআপ ও অ্যাডমিট কার্ড বিতরণে স্কুলগুলির গাফিলতি চোখে পড়ছে। তাঁর কথায়, “৫০টি অ্যাডমিট এখনও আমার গাড়িতে পড়ে আছে। ভবিষ্যতে স্কুলগুলোকে আরও সতর্ক হতে হবে।”